গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ এএম

সিম সোয়াপিং করে যেভাবে প্রতারণা হয়

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
সিম সোয়াপিং করে যেভাবে প্রতারণা হয়

মুঠোফোনে হঠাৎ নেটওয়ার্ক উধাও। ভাবছেন সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি? অথচ এই সুযোগেই আপনার ব্যাংক হিসাব থেকে গায়েব হয়ে যেতে পারে জমানো সব টাকা, হাতছাড়া হতে পারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ। সাইবার অপরাধের দুনিয়ায় উদ্বেগজনক এই কৌশলের নাম ‘সিম সোয়াপিং’। সম্প্রতি এক চক্রের বিরুদ্ধে সিম সোয়াপিংয়ের মাধ্যমে ৮০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির অভিযোগ ওঠার পর এই প্রতারণা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই কৌশলে গ্রাহকদের প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার খোয়া গেছে।

সিম সোয়াপিং আসলে কী?

সিম সোয়াপিং একধরনের সাইবার প্রতারণা। এ পদ্ধতিতে অপরাধীরা মুঠোফোন সেবাদাতাকে ভুল তথ্য দিয়ে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত ফোন নম্বর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্য একটি সিম কার্ডে স্থানান্তর করে নেয়। এ জন্য তারা সাধারণত নম্বরটির প্রকৃত গ্রাহক পরিচয়ে অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। অপারেটর প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে না পারলে নম্বরটি নতুন সিমে স্থানান্তর করে দেয়। এতে গ্রাহকের পুরোনো সিমটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। ফলে ওই নম্বরে আসা সব ফোনকল, খুদে বার্তা এবং ব্যাংক বা অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশের ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ডের (ওটিপি) সরাসরি নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অপরাধীদের হাতে।

প্রথমে সংগ্রহ করা হয় ব্যক্তিগত তথ্য: প্রথম ধাপে প্রতারকেরা বিভিন্ন ফিশিং লিংক, ম্যালওয়্যার আক্রমণ কিংবা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল খাটিয়ে ভুক্তভোগীর নাম, জন্ম তারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে। কোনো সংস্থার ডেটাবেজ থেকে তথ্য ফাঁসের শিকার হলেও এসব বিবরণ অপরাধীদের হাতে পৌঁছে যায়।

অপারেটরকে বিভ্রান্ত করা: সংগৃহীত তথ্য নিয়ে প্রতারকেরা গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে বা মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে আসল গ্রাহক সেজে যোগাযোগ করে। ফোন হারিয়ে যাওয়া বা সিম নষ্টের অজুহাত দেখিয়ে নম্বরটি নতুন একটি ব্ল্যাঙ্ক সিমে স্থানান্তরের অনুরোধ জানায়। পরিচয় যাচাই ত্রুটিপূর্ণ হলে অপারেটর নম্বরটি হস্তান্তর করে দেয়।

ফোনকল ও খুদে বার্তা পেতে শুরু করে প্রতারকেরা: নম্বর চালু হওয়ামাত্র আসল গ্রাহকের ফোনে নেটওয়ার্ক চলে যায় এবং অপরাধীর হ্যান্ডসেটে কল ও খুদে বার্তা আসতে শুরু করে।

বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ: এরপর অপরাধীরা ব্যাংক, ই-মেইল বা সামাজিক মাধ্যমের ‘ফরগট পাসওয়ার্ড’ বিকল্প ব্যবহার করে। ফোনে আসা ওটিপি বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন কোড ব্যবহার করে তারা অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা স্তর ভেঙে ঢুকে পড়ে। পাসওয়ার্ড দ্রুত বদলে দিয়ে আসল ব্যবহারকারীকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে অর্থ হাতিয়ে নেয়। সূত্র: নরটন

টেকবার্তার সঙ্গে যোগাযোগ: techbarta@prothomalo.com

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।