গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:০০ পিএম

বড় বাজারের জন্মের ইতিহাস জড়িয়ে যে নীলকুঠিতে

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
বড় বাজারের জন্মের ইতিহাস জড়িয়ে যে নীলকুঠিতে

বেরিয়ে গেছে কঙ্কাল, সেই কঙ্কালের হাড়গুলোও যেন ভাঙা—ঠিক এমনই অবস্থায় আছে শতাব্দীর স্মৃতিবিজড়িত চার্লির নীলকুঠি।

খুলনা বড় বাজারের পাশে রেলওয়ে হাসপাতাল সড়কে বনজঙ্গলে ঘেরা একটি জীর্ণ দালান দাঁড়িয়ে আছে। সব দেয়াল ভেঙে গেছে, সিঁড়িগুলো সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। কেবল ইস্পাতের পিলারের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ছাদের অবশিষ্টাংশ। শতাব্দীপ্রাচীন কঙ্কালসার ভবনটি খুলনা অঞ্চলের প্রথম পাকা দালান, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছে এখন ‘ভূতের বাড়ি’ নামেই বেশি পরিচিত।

খুলনা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, নীলকর চার্লি ১৭৮৬ সালে ভৈরব নদের তীরে ৪৩ শতাংশ জমির ওপর এই নীলকুঠি স্থাপন করেন। ইট, চুন-সুরকি, লোহার খাম, কাঠের পাটাতন ও মাটির টালি দিয়ে দোতলা বাড়িটি তৈরি হয়েছিল। ওপরতলায় তিনটি ও নিচতলায় চারটি কামরা এবং সামনে ছিল খোলা বারান্দা। নদের তীরে চার্লির গড়া সেই হাটই কালক্রমে ‘সাহেবের বাজার’ হয়ে আজকের ‘বড় বাজার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। বড় বাজারের জন্মের সুদীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে এই নীলকুঠি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

১৮৮৪ সালে খুলনায় রেলপথ স্থাপিত হলে বাড়িটিকে ইন্ডিয়ান জেনারেল নেভিগেশন অ্যান্ড রেলওয়ে কোম্পানির কার্যালয় বানায় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। দেশভাগের পর এটি নেভিগেশনের প্রধান অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৭১ সালের পর বিআইডব্লিউটিসি ৯৯ বছরের লিজ নিয়ে একে আঞ্চলিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। অবশেষে ২০০১ সালে ঐতিহাসিক ভবনটিকে পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তখন থেকে এর রক্ষণাবেক্ষণের সার্বিক দায়িত্ব বর্তায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ওপর।

কিন্তু দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি এখন একদম ধ্বংসপ্রায়। হঠাৎ দেখলে এটি যে একটি প্রাচীন ভবন, তা বোঝার কোনো উপায় নেই। স্থানীয় লোকজন জানান, নজরদারির অভাবে রাতের আঁধারে ভবনটি থেকে ইট, লোহা ও ছাদের টালি নিয়মিত চুরি হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা ছাড়া আর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নির্জন এই স্থান এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

একই রুগ্ণ দশা বড় বাজারের শতবর্ষী মাড়োয়ারি দালানগুলোরও। ওয়েস্ট মেকট রোডের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এসব ভবন এখনো মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদের সোনালি অতীতের স্মৃতি বহন করছে। কিন্তু উপযুক্ত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এগুলোও এখন জীর্ণশীর্ণ। ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।