গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৪ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

সীমান্তের শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে বাবাকে শেষবার দেখলেন মেয়ে

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
সীমান্তের শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে বাবাকে শেষবার দেখলেন মেয়ে

সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া কেড়ে নিয়েছিল বাবা-মেয়ের স্বাভাবিক যোগাযোগ। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর বাবার সঙ্গে দেখা কিংবা সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয়নি। বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে সীমান্তের শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো বাবাকে দেখলেন মেয়ে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মানবিক উদ্যোগে বাংলাদেশে বসবাসরত শতবর্ষী মোনরুদ্দিন শেখের বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুন এ সুযোগ পান।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মেহেরপুরের মুজিবনগর স্বাধীনতা সড়কের ১০৫ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন শূন্যরেখার বেলতলায় এ আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।

মৃত মোনরুদ্দিন শেখের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামে। 

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছরের বেশি। তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক ছিলেন তিনি। সন্তানদের মধ্যে বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুনের বিয়ে হয় বাংলাদেশের মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের সোনাপুর নতুনপাড়ায়।

প্রায় ৪৫-৫০ বছর আগে ইসরাফিলের সঙ্গে বিয়ের পর বাংলাদেশে বসবাস শুরু করেন ফিরদৌসী। এরপর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের ফলে বাবার বাড়ির সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাবার সঙ্গে সরাসরি দেখা তো দূরের কথা, স্বাভাবিক যোগাযোগের সুযোগও হয়নি। দুই দেশের সীমান্ত বিভক্ত করে দিলেও বাবা-মেয়ের সম্পর্কের টান রয়ে যায় অটুট।

এরই মধ্যে বাবার মৃত্যুসংবাদ পৌঁছালে তাকে শেষবারের মতো দেখার আকুতি জানান ফিরদৌসী। তার এই আকাঙ্ক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে শূন্যরেখায় বিশেষ সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী পর বাবাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান তিনি। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবির মুজিবনগর কোম্পানি সদর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার এনায়েত হোসেন। অন্যদিকে ভারতের পক্ষে ছয় সদস্যের একটি দল উপস্থিত ছিল। দলটির নেতৃত্ব দেন এএসআই সুনীল কুমার।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান কালবেলাকে বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তের শূন্যরেখায় মেয়েকে তার মৃত বাবার মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করা হয়। সাধারণত এ ধরনের মানবিক পরিস্থিতিতে বিজিবি ও বিএসএফ পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে থাকে।    

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।