গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৪ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

রোনালদোর বিদায়ের নেপথ্যে কী

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
রোনালদোর বিদায়ের নেপথ্যে কী

দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের জার্সিতে আর দেখা যাবে না ফুটবলের এই মহাতারকাকে। ৪১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হলো পর্তুগিজ ফুটবলের এক গৌরবময় অধ্যায়। যে খেলোয়াড় দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের কোটি মানুষের স্বপ্ন বয়ে বেড়িয়েছেন, গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড, তাঁর বিদায় তাই কেবল একজন ফুটবলারের অবসর নয়; এটি একটি যুগের সমাপ্তি।

তবে রোনালদোর এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে নানা ঘটনা। পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিরোধ, দলের হয়ে খেলার সুযোগ নিয়ে অসন্তোষ এবং বয়সের সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতার পরিবর্তন—সবকিছু মিলিয়েই হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

পর্তুগালের হয়ে ২৩ বছরে ২৩৪ ম্যাচ খেলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

জেসুসের সঙ্গে বিরোধ, বিদায়ের সূত্রপাত
রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টি মোটেও সুখকর ছিল না। পর্তুগালের নতুন কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তাঁর বিরোধের সূত্রপাত নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচকে কেন্দ্র করে। ম্যাচটিতে পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে থাকতে হয় পর্তুগিজ অধিনায়ককে।

রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, কোচের সঙ্গে তাঁর একটি সমঝোতা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁকে প্রথম দিকে বিশ্রামে রাখা হবে। তবে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে জেসুস তাঁকে প্রায় ৩০ মিনিট খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা জানান। এ জন্য রোনালদো প্রস্তুতিও নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে মাঠে নামাননি কোচ।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন রোনালদো। তাঁর অভিযোগ, কোচ কথা রাখেননি। পরে ব্যক্তিগত আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হলেও সংবাদমাধ্যমে জেসুসের বক্তব্য নিয়ে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়। একপর্যায়ে পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। ঘটনাটি তাঁর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ছবিটি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তোলা

নিজের অর্জন অক্ষুণ্ন রাখার ভাবনা
পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর অর্জন অসাধারণ। ২০১৬ সালে দেশকে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এরপর ২০১৯ ও ২০২৫ সালে জেতেন উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা।

জাতীয় দলের হয়ে গোলের সংখ্যায়ও ইতিহাস গড়েছেন এই তারকা। ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড তাঁর দখলে। ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার কীর্তিও রয়েছে তাঁর।

এত সব অর্জনের পর বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্তকে নিজের দীর্ঘদিনের গড়া ভাবমূর্তি ধরে রাখার চেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন রোনালদো। এখন হয়তো চান, দর্শকের মনে তাঁর শেষ স্মৃতিটুকুও থাকুক একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় হিসেবে।

পর্তুগাল ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
লিওনেল আন্দ্রেস মেসি: একুশ বছরের নীল-সাদা গল্প

বয়স কি সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে?
৪১ বছর বয়সেও রোনালদো গোল করতে পারেন, ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাও আগের চেয়ে চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া পর্তুগাল দলে উঠে আসছেন নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়েরা। তাঁদের জন্য জায়গা তৈরি করা এবং জাতীয় দলের দায়িত্ব তরুণদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টিও রোনালদোর ভাবনায় থাকতে পারে। অবশ্য বয়স বা শারীরিক সক্ষমতাকে অবসরের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাবেন রোনালদো। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে এখনো খেলছেন তিনি। ফলে ফুটবল থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না এই তারকা।

পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালের আগস্টে। সেই যাত্রার শেষ হলো ২০২৬ সালের নভেম্বরে। মাঝের ২৩ বছরে তিনি শুধু গোল করেননি, বদলে দিয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাস। জিতেছেন শিরোপা, ভেঙেছেন রেকর্ড, অনুপ্রাণিত করেছেন অসংখ্য তরুণকে। শেষ পর্যন্ত সাত নম্বর জার্সিটি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিজের মতো করেই। তবে পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে রোনালদোর নাম যে বহুদিন উজ্জ্বল থাকবে, তা বলাই যায়।

সূত্র: গোলডটকম

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।