গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৪ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

পাবনায় কঙ্কাল চুরির আতঙ্কে কবর পাহারায় স্বজনরা

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
পাবনায় কঙ্কাল চুরির আতঙ্কে কবর পাহারায় স্বজনরা

বজ্রপাতে নিহত ছয়জনকে হারানোর শোক কাটতে না কাটতেই পাবনায় স্বজনদের মধ্যে নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কবর থেকে কঙ্কাল চুরির আশঙ্কায় প্রিয়জনের কবর পাহারা দিতে রাত জাগছেন তারা। প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত পালাক্রমে এই পাহারা চলছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে পাবনা সদর উপজেলার বাসুদেবপুর কবরস্থানে গিয়ে দেখা যায়, অন্ধকারের মধ্যে দলবেঁধে কবর পাহারা দিচ্ছেন স্বজনরা।

স্বজনরা জানান, কবর পাহারার পাশাপাশি এই আতঙ্কে তারা বাড়িতেও স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না। প্রিয়জনের কবরের নিরাপত্তা নিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের সময়।

তাদের দাবি, প্রশাসনের উদ্যোগে কবরস্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হোক এবং স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। এতে দুশ্চিন্তা কমবে এবং তারা নিশ্চিন্তে বাড়িতে থাকতে পারবেন বলে আশা করছেন।

গত ৩০ অক্টোবর পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতিল বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ছয়জন প্রাণ হারান।

নিহতরা হলেন- গজমতিকুন্ডা এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে শাওন (২৪), নলমুড়া এলাকার ইসমাইল মোল্লার ছেলে রব্বেল মোল্লা (২০), শাজাহান প্রামাণিকের ছেলে মিজানুর রহমান (১০), নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজিদ (১৪), শাহাদুলের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৮) ও ইবাদুলের ছেলে ইমন (১৪)।

পরদিন বাসুদেবপুর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এরপর থেকেই কঙ্কাল চুরির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনরা এবং প্রতি রাতে কবর পাহারা দিতে শুরু করেন।

নিহত রব্বেল মোল্লার বাবা ইসমাইল মোল্লা বলেন, ‘একই পরিবারের চারজনকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। একদিকে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে ছেলেদের কবর পাহারা দিতে রাত জাগতে হচ্ছে। পরিবারের বড় হওয়ায় সবাইকে বোঝানোর দায়িত্ব আমারই। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, সন্তানদের কবরগুলো যেন বাঁধিয়ে দেওয়া হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা মামুন শেখ বলেন, ‘কুসংস্কার হলেও শুনেছি, বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির লাশ কবর থেকে চুরি হয়ে যায়। তাই এলাকাবাসী ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা সারারাত কবর পাহারা দিচ্ছি। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, কবরগুলো দেখভালের একটা ব্যবস্থা করা হোক।’

এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, ‘কবরস্থানের নিরাপত্তা নিয়ে স্বজনদের উদ্বেগের কথা জানার পর সেখানে পুলিশের বিশেষ টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সদর থানার বিট অফিসারকে নিয়মিত কবরস্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না।’

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।