গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৩ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া…

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া…

দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু- এই চরণগুলো কোন কবিতার কিংবা কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে সেটা খোঁজার জন্য এক বয়সে অনেক চেষ্টা করেছি। কখনো খুঁজে পাইনি। কেন খুঁজে পেলাম না। এটা জানার জন্য একদিন একজন বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী এবং গবেষকের কাছে গিয়ে তো আমি অবাক। তিনি জানালেন এই চরণগুলো রবীন্দ্রনাথের কোনো কাব্যগ্রন্থ কিংবা কবিতার চরণ নয়। এই চরণগুলো তিনি লিখেছিলেন কিংবদন্তি লেখক, চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়কে একটি খাতা ডায়েরিতে অটোগ্রাফ দিতে গিয়ে। এটা কোনো কবিতার অংশবিশেষ নয়। আমার মতো অনেকেরই এই ভুলটা রয়ে গেছে। এই তথ্য পাওয়ার পর তাদের ধারণাও পাল্টে যাবে। কিন্তু এই চরণগুলোর কথা তো সত্যি। একসময় মানুষ উট কিংবা ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কেউবা দূরের যাত্রায় জাহাজ ব্যবহার করেছেন। এরকম পর্যটকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এই ডিজিটাল যুগেও আমরা দেখতে পাই-অনেকে বিমানে করে গিয়ে প্রকৃতিকে অবলোকন করার জন্য মাইলকে মাইল পায়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। কেউবা পাহাড়ে উঠে যাচ্ছে মনের আনন্দে। বিশ্বের নানাপ্রান্তের মানুষ শুধু ভ্রমণ কিংবা আনন্দ বিনোদনের জন্য কতো দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেকে সমুদ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ছোট্ট একটি নৌকায়। বড় বড় ঢেউ উপভোগ করছেন। আধুনিক জাহাজের সুবিধা থাকতেও তারা শুধু মনের আনন্দের জন্য, মানসিক শান্তির জন্য অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করতে ভালোবাসেন। সমুদ্রে গোলাপি নীল তিমি দেখেন। কেউ পানিতে ভেসে আনন্দ পান। মানুষ এখনো আধুনিক সুবিধা থাকতেও এভারেস্টে পায়ে হেঁটে উঠার চেষ্টা করছে। সত্তর কিংবা সত্তরোর্ধ ব্যক্তিরাও দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কিংবা এভারেস্টে উঠার চেষ্টা করছেন। তাদের একটাই উদ্দেশ্য নতুন কিছু দেখবো, জানবো। প্রকৃতিকে আবিষ্কার করবো। প্রকৃতির মধ্যে নিজেকে প্রকাশ করবো। আমার আনন্দটুকু ভাগ করে নেবো প্রকৃতির সঙ্গে। এই যে একটি ধানের উপর ছোট্ট একটি বিন্দু সেখান থেকে বিশাল সমুদ্রের জলরাশি। সমুদ্রে যেমন মাইলের পর মাইল পানি দেখে মানুষ তেমনি মরুভূমিতে মানুষ মাইলের পর মাইল বালু দেখে। এই বালুর রং একেক সময় একেক রকম হয়। সূর্যের আলো এই বালুর উপর পড়লে বিভিন্ন এ্যাঙ্গেল থেকে বালুকে বিভিন্ন রঙের দেখায়। বাতাসে যখন বালু ওড়ে তখন আবার অন্যরকম দেখায়। পানির মতো বালু দেখা কিংবা অঝোর ধারায় পানি পড়ার শব্দ শোনা এসব কিছু কিন্তু প্রকৃতির রূপ প্রকৃতির নানা বৈশিষ্ট্য। ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। এই ছয় ঋতুর দিকে যদি আমরা তাকাই তাহলে প্রকৃতির নানান রূপ দেখি। আমরা অবাক হয়ে দেখি কি সুন্দর রং। এই ছয়টি রং প্রত্যেক ঋতুতে কি নান্দনিকভাবে আমাদের ক্যামেরায় কিংবা চোখে ধরা পড়ে। ধানের ক্ষেতে সবুজ কিংবা পাকা ধানের হলুদাভ বরণ আমাদের মোহিত করে। এই রংয়ের পার্থক্য আমরা সহজেই ধরতে পারি। হল্যান্ডের টিউলিপ ফুলের চেয়ে আমাদের এই ধানের ক্ষেতের রং কিন্তু কোনো অংশেই কম নয়। আসলেই প্রকৃতির সবকিছুই সুন্দর। আমরা পৃথিবীর যেখানেই বাস করি সেখানকার পটভূমি নিয়ে আমরা গর্ব করি। সেই প্রকৃতিই আমাদের গর্ব অহংকারের। আমরা সুযোগ পেলেই ছুটে যাই আমাদের প্রিয় কক্সবাজার। কক্সবাজার বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত। এখানে গিয়ে আমরা অনুভব করি সমুদ্রের বিশালতা। গর্জন শুনি সমুদ্রের। বিশাল বড় বড় ঢেউ উপভোগ করি। কিংবা বান্দরবান ছুটে যাই পাহাড় দেখতে। পাহাড়ের সবুজ রং আমাদের বরাবর মোহিত করে। সেভাবেই সিলেটের সাদা পাথর, জাফলং মন কেড়ে নেয়। সময় সুযোগ পেলেই মানুষ সেখানে ছুটে যায়; উপভোগ করে প্রকৃতিকে। এই প্রকৃতিকে দেখার জন্য মানুষ কতো দেশে যায়। অন্যদেশের মানুষ আমাদের দেশে আসে। এমন অনেক দেশ রয়েছে পৃথিবীতে যারা শুধুমাত্র পর্যটনকে কেন্দ্র করেই তাদের অর্থনীতির চাকা পরিচালিত করে। হয়তো সেদিন বেশি দূরে নয়, আমরা যেমন এখন এই আধুনিক যুগে প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর দেশের প্রকৃতিকে আমাদের ড্রইংরুমে নিয়ে আসতে পারি ভবিষ্যতে হয়তো সেদেশের বাতাসকে আমরা আমাদের কাছে নিয়ে আসতে পারবো। আমরা অনুভব করতে পারবো সেদেশের ফুলের গন্ধ। কিন্তু প্রকৃতিকে আমাদের ড্রইংরুমে নিয়ে আসার চেয়ে আমরা নিজেরাই যাই প্রকৃতির কাছে। প্রকৃতির যে রং, যে বর্ণচ্ছটা আমরা পাবো সেটা পাওয়া খুবই কঠিন হবে। সুতরাং এখনই সময় প্রকৃতির কাছে থাকার। প্রকৃতির রংকে উপভোগ করতে এখনই ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া।

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।