রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই বিভাগের তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আলী চৌধুরী, মো. শাওন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তানভীর হোসাইন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় সিরাজী ভবনের সামনে ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। এক পক্ষের দাবি, কয়েক দিন আগে তারা সেখানে কোর্ট তৈরির জন্য বাঁশ পুঁতে জায়গা নির্ধারণ করে রেখেছিল। পরে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা একই জায়গায় কোর্ট তৈরির উদ্যোগ নিলে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি থেকে মারামারি শুরু হয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আহত শিক্ষার্থী তানভীর হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার সময় অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে তাঁদের ওপর হামলা করেন। এ সময় তাঁকে ব্যাডমিন্টন কোর্টের বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর নাক ও চোখের নিচে আঘাত লাগে এবং নাক দিয়ে রক্তপাত হয়। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। তানভীরের দাবি, কয়েক দিন আগে তাঁরা সেখানে কোর্ট তৈরি করেছিলেন। অন্য পক্ষের কোর্ট তৈরির দাবির পক্ষে কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন বা প্রমাণ ছিল না।
অন্যদিকে নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, তাঁরা কোর্ট তৈরির জন্য সেখানে বাঁশ পুঁতে জায়গা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। কিছুদিন আগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই অনুষ্ঠানের জন্য সেখানে আরও কিছু বাঁশ পোঁতা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ওই বিভাগের বাঁশের সঙ্গে তাঁদের বাঁশও তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের নির্ধারিত জায়গায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীরা কোর্ট তৈরি করতে চান। বিষয়টি জানালে তাঁরা মেনে নেওয়ার কথা বলেছিলেন।
ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘আমাদের বিভাগের কয়েকজন জুনিয়র কোর্ট তৈরি করতে গেলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী তাঁদের সঙ্গে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধর করেন। পরে প্রক্টর স্যার এসে বিষয়টি মীমাংসা করলে আমরা চলে যেতে চাই। এ সময় আবারও আমাদের ওপর হামলা করা হয়।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এ এইচ এম খুরশিদ আলম বলেন, এ ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের নাকে আঘাত লেগেছে, একজনের মাথায় সামান্য ক্ষত এবং অন্যজন হাতে ব্যথা পেয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাতে আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর হাড় ভেঙেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক্স-রে করানো হয়। তবে পরীক্ষায় কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।
তিনজনই চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরে গেছেন। তাঁদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।
ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যাডমিন্টন কোর্টে কে আগে-পরে খুঁটি পুঁতে রেখেছিল, সেটা নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ হয়েছে। প্রথম দফায় আমরা মীমাংসা করে দিয়েছি। দ্বিতীয় দফায় আবার হাতাহাতি হয়েছে। তৃতীয় দফায় দুই বিভাগের শিক্ষকদের ডেকে এনে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চলে যেতে বলা হয়। এ সময় মমতাজউদ্দিন ভবনের সামনে গিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।’
সূত্র: প্রথম আলো