গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

চার মিনিটের জবানবন্দিতে ফের আলোচনায় ছোটভাই আলমগীর

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
চার মিনিটের জবানবন্দিতে ফের আলোচনায় ছোটভাই আলমগীর

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়ির গেটের সামনে ভাড়াটিয়া খুনিদের আক্রমণে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। 

হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মধ্যে জনতার হাতে আটক হওয়া প্রধান ভাড়াটে খুনি হেলালকে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছোট ভাই আলমগীর শিকদারের নাম প্রকাশ করে খুনি হেলাল। এমন একটি ভিডিও ফুটেজ আসে প্রতিবেদকের কাছে। 

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, খুনি হেলাল পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিচ্ছে যে জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে জখম করার জন্য ছোট ভাই আলমগীর আর তার সহযোগী খোকা ভাড়া করেছেন হেলালকে। 
হেলালকে আরও বলতে শোনা যাচ্ছে, আলমগীরের পক্ষ থেকে খুনিদের বলা হয়েছে- ‘যা টাকা লাগবে আমি দিব, কাজটা উঠিয়ে দেও’। এই কাজে আরও সহযোগিতায় ছিলেন আলমগীরের সহযোগী খোকা। 

খুনিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৩ জুলাই আলমগীরের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে দেখা হয়েছিল খুনিদের। খুনিদের বাসস্ট্যান্ড থেকে রিসিভ করে খোকা মিঠামইনে নিয়ে আসেন। হেলালের জবানবন্দি অনুযায়ী আলমগীর শিকদারের চেহারার আকৃতি মিলে যাচ্ছে। বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরকে হত্যা নয়, কুপিয়ে জখম করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর আগেও জেলখানা থেকে খুনি হেলাল মোবাইলে যোগাযোগ করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জানান নিহত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরীকে। এই ৯ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের কথোপকথন প্রকাশের পর হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছোট ভাই আলমগীরকে নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়।

মিঠামইন থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভিডিওটা সত্য এবং ঘটনার রাতেই এই জবানবন্দি দিয়েছিল খুনি হেলাল। ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিতে জবানবন্দির সময় উপস্থিত কয়েকজন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি; তবে ঘটনাটি সত্য বলে নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত আলমগীর শিকদারের দেশের বাইরে থাকায় মোবাইলে যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এর আগের বক্তব্যে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। পারিবারিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন তিনি।

নিহত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী পুলিশ তদন্ত নিয়ে অভিযোগ করে দাবি করে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আলমগীরের উপর সন্দেহ করেছিল পরিবারের সবাই। এর আগেও জেলখানা থেকে খুনি মোবাইলে বলেছেন আলমগীর শিকদার এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে; আজকেও দেখলাম তার নাম।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আলমগীর শিকদার হত্যাকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ড ছিলেন, কিন্তু কিভাবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বাইরে পাড়ি জমিয়েছেন?’ 

হেলালের জবানবন্দির ভিডিও বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনোয়ার মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এই ভিডিওর বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। 

তিনি বলেন, খুনি বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলেছে। ঘটনাস্থলে ধরা পড়ে বলল খোকার কথা, এর মাঝে এই ভিডিও কে করল জানি না; এই ভিডিওতে বলছেন আলমগীরের কথা। তারপর আবার বিজ্ঞ আদালতে গিয়ে ১৬৪-এ বলেছে ধরা পড়লে আলমগীরের নাম বলতে বলা হয়েছিল তাকে। এখন তিনি ১৬৪-তে যা বলেছেন তাই নথিভুক্ত করেছি।’

বর্তমানে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা সংস্থা ডিবিতে তদন্তের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে ডিবি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলেও কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।