গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

যৌন নিপীড়নের চার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
যৌন নিপীড়নের চার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড
ব্রিটিশ অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রাসেল ব্র্যান্ড ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। চার নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের দায়ে তার উল্লেখযোগ্য মেয়াদের কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) তার সাজা ঘোষণা করবেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে চার সপ্তাহের বিচার শেষে জুরিরা এই রায় দেন। ৫১ বছর বয়সী রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টাসহ মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ছয় নারীর করা এসব অভিযোগের ঘটনা ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ঘটেছে বলে আদালতে জানানো হয়। বিচার চলাকালে ব্র্যান্ডকে নির্মম, হিসাবি ও কৌশলী যৌন নিপীড়ক হিসেবে বর্ণনা করেন কৌঁসুলিরা। অভিযোগ অনুযায়ী, লন্ডনের অভিজাত বাড়িতে এক নারীকে ধর্ষণ করেন তিনি। এ ছাড়া নিজের সহকর্মীদের উপস্থিতিতে কর্মস্থল, একটি রেডিও স্টেশন ও টেলিভিশন স্টুডিওতে নারীদের যৌন নিপীড়ন করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর তাদের মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন ব্র্যান্ড। নারীদের নিজের যৌন চাহিদা পূরণের উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করতেন তিনি। তবে বিচার চলাকালে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন ব্র্যান্ড। কিছু ঘটনা তার মনে নেই বলে দাবি করেন তিনি। অন্য ঘটনাগুলোকে সম্মতিতে হওয়া যৌন সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০২৩ সালে চ্যানেল ফোরের ‘ডিসপ্যাচেস’ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান এবং টাইমস ও সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ প্রকাশের পর ঘটনাগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দীর্ঘ সাড়ে আট ঘণ্টা আলোচনার পর জুরি বোর্ডের সদস্যরা রাসেল ব্র্যান্ডকে চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে খালাস দেন তিনটিতে। রায়ের আগে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে স্ত্রীকে ভালোবাসার কথা জানান ও প্রার্থনা করেন তিনি। পরবর্তীতে বিচারক তাকে উল্লেখযোগ্য কারাদণ্ডের আশঙ্কায় তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের শুরুর দিকে লন্ডনের হ্যামারস্মিথ অ্যাপোলোর একটি অনুষ্ঠান থেকে এক তরুণী ভক্তকে নিজের বাড়িতে নিয়ে পায়ুপথে ধর্ষণ করেন রাসেল ব্র্যান্ড। এ ছাড়া ২০০৪ সালে লন্ডনের সোহোতে এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এমটিভির এক নারী কর্মীর স্তন স্পর্শ এবং ২০০৪ কিংবা ২০০৫ সালে চয়েস এফএম রেডিও স্টেশনে কর্মরত এক নারীকে স্তন চেপে ধরা ও অস্বস্তিকরভাবে চুমু দিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে চ্যানেল ফোরের চিত্রায়ণের সময় আরেক নারী কর্মীর কোলে মাথা রেখে যৌনাঙ্গের কাছে নিঃশ্বাস ফেলে তাকে বিব্রত করার ঘটনায়ও তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তবে এর বাইরে ১৯৯৯ সালে বোর্নমাউথে এক নারীকে ধর্ষণ এবং ২০০১ সালে এমটিভির আরেক কর্মীকে শৌচাগারে টেনে নেওয়ার চেষ্টা ও নিপীড়নের অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন এই অভিনেতা। এছাড়াও ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত চলছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নতুন অভিযোগের বিষয়ে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের কাছেও নথি পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাসেল ব্র্যান্ডের আচরণ প্রথমে বন্ধুসুলভ মনে হলেও মুহূর্তেই তা ভয়ংকর ও নিষ্ঠুর রূপ নিত। আসামিপক্ষ থেকে ভুক্তভোগীরা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা বা চিৎকার করেননি বলে দাবি করা হলে, ভুক্তভোগীবিষয়ক কমিশনার ক্লেয়ার ওয়াক্সম্যান একে পুরোনো ও ক্ষতিকর সামাজিক মানসিকতা হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র সমালোচনা করেন। অন্যদিকে রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও চ্যানেল ফোরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর জবাবে চ্যানেল ফোর নারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছে এবং বিবিসি তাদের অতীতের কর্মপরিবেশের ত্রুটি ও ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছে নতুন করে ক্ষমা চেয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।