চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের গলিতে একটি দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখার ঘটনায় ছয় ছাত্রীর লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, ‘ইয়ার্কির (মজার) ছলে’ তারা দেয়ালে এসব লিখেছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের শরীরী ভাষা তেমনটা ছিল না।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের একটি বসতবাড়ির দেয়ালে কয়েকজন ছাত্রীর ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হাসিনা’, ‘মুজিব সেনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
গতকাল বৃহস্পতিবারের এ ঘটনার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির একজন ও সপ্তম শ্রেণির চারজন ছাত্রীকে শনাক্ত করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যে সপ্তম শ্রেণির আরও এক ছাত্রীসহ নেপথ্যে থাকা অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর নামও সামনে আসে।
আজ শুক্রবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ডাকে অভিযুক্ত ছয় ছাত্রী এবং তাদের বাবা-মা উপস্থিত হন। জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাদের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষে এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ) বি এম তারিক উজ্জামান এবং নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ফাহাদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ শেষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিমসহ শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা স্থিরচিত্র সংগ্রহ করেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন পঞ্চম শ্রেণির আর পাঁচজন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেছে, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা প্রলোভন থেকে নয়, বরং ‘ইয়ার্কির ছলে’ তারা দেয়ালে এসব লিখেছে। তাদের পরিবারও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়।
সূত্রটি আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের শেষ মুহূর্তে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী তার জবানবন্দিতে জানায়, ঘটনার সময় ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী তাদের এটি লিখতে নির্দেশ দিয়েছিল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন দেয়ালে লেখার কথা স্বীকার করলেও বাকিরা দাবি করেছে তারা শুধু সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। কী লেখা হবে তা তারা জানত না বলেও দাবি করেছে।
তবে ছাত্রীদের দাবির বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বা শরীরী ভাষা কিন্তু নিরপরাধ কিছু বলছিল না। এমনকি একজনকে বেশ উত্তেজিত অবস্থায় স্লোগান দেওয়ার ভঙ্গিতেও দেখা গেছে।’
এদিকে নেপথ্যে থাকা অষ্টম শ্রেণির অভিযুক্ত ছাত্রীর কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট শ্রেণি শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আজ বিকেলের মধ্যেই তাঁর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাত্রীদের কাছ থেকে কোনো মুচলেকা নেওয়া হয়নি। কেবল তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। এখন অষ্টম শ্রেণির অভিযুক্ত ছাত্রীর বক্তব্য পাওয়া গেলে পুরো ঘটনার একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে। পরে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশ এবং বিধিমালা অনুযায়ী চূড়ান্ত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্র: প্রথম আলো