গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম

হাসান মাহমুদের দিনে বাংলাদেশের আশা হৃদয়–মুশফিক

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
হাসান মাহমুদের দিনে বাংলাদেশের আশা হৃদয়–মুশফিক

টেস্ট ক্রিকেটে কখনো কখনো একজন বোলারই হয়ে ওঠেন পুরো দলের আশা। সতীর্থদের ব্যর্থতা, প্রতিপক্ষের দাপট, উইকেটের চরিত্র, সবকিছুর সঙ্গে একা লড়াই করেন তিনি। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের হয়ে সেই কাজটাই করলেন হাসান মাহমুদ।

প্রথম দিন ৪ উইকেটে ২৩৫ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংস ৩৫৬ রানে থামিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। তাতে সবচেয়ে বড় অবদান হাসানের। একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। তাঁর বোলিংয়েই ম্যাচে ফিরেছে বাংলাদেশ।
গতকাল শেষ বিকেলের হতাশা নিয়ে আজ দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। পুরোনো বলে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিলেন না বোলাররা। নতুন বল হাতে পাওয়ার পরই অবশ্য দৃশ্যপট বদলে দেন হাসান।

শুরুটা আমির জাঙ্গুকে দিয়ে। আগের দিনই সেঞ্চুরি পাওয়া এই ব্যাটসম্যান ২১২ বল খেলে ফেলেছিলেন। অথচ হাসানের বলে ব্যাট না চালিয়ে ছেড়ে দিতে গিয়ে বোল্ড! পরের বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন রোস্টন চেজ। হাসানের সামনে তখন হ্যাটট্রিকের সুযোগ। জশুয়া বিশপকে আউটের আবেদনেও সাড়া দিয়েছিলেন আম্পায়ার। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান বিশপ। ফলে হ্যাটট্রিক আর পাওয়া হয়নি হাসানের।

হ্যাটট্রিকও প্রায় করে ফেলেছিলেন হাসান মাহমুদ

তবে দিনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাটি ঘটেছে তাঁর পঞ্চম উইকেটের সময়। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে আগে কখনো কোনো পেসারের বলে স্টাম্পিং হননি প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যান। সেই ইতিহাসই নতুন করে লিখেছেন হাসান। তাঁর বলে জশুয়া বিশপকে স্টাম্পিং করেছেন লিটন দাস।

উইকেটকিপার হিসেবে লিটন যে বিশ্বের সেরাদের একজন, তা নিয়ে সংশয় নেই। কিন্তু পেসারদের বলে স্টাম্পের এত কাছে দাঁড়িয়ে তাঁকে সচরাচর কিপিং করতে দেখা যায় না। বিশপের বেলায় প্রথম বলেই বিদ্যুৎগতির স্টাম্পিং করে দেখিয়েছেন, কেন তাঁকে এত উঁচুতে রাখা হয়।

গ্যালারিতে শিক্ষাসফরে একজনের মুখে ‘হাসান’, বাকিদের মুখে ‘উইকেট’

টেস্টে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট পেলেন হাসান। এর আগে চারবার ইনিংসে ৫ উইকেট ছিল তাঁর। তবে প্রতিবারই ভিন্ন ভিন্ন দেশে।

পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। টেস্ট ইতিহাসে হাসান ছাড়া এমন কীর্তি আছে শুধু অস্ট্রেলিয়ার নাথান লায়নের।

৫ উইকেটের পর আরও একবার আঘাত হেনেছেন হাসান। তাঁর ৬ উইকেটের সুবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে থামানো গেছে। তবে সাড়ে তিন শ রানের নিচে যে অতিথিদের আটকে রাখা যায়নি, সে দায় স্পিনারদের কিছুটা নিতেই হবে। ৩১.৪ ওভার বল করে ২ উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু ৩০ ওভার বল করে উইকেটশূন্য থেকেছেন তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান।

চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন সাদমান ইসলাম

বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরুর আগেই অবশ্য ধাক্কা লেগেছিল। বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে বাঁ পায়ের অ্যাঙ্কেলে চোট পান সাদমান ইসলাম। অ্যাঙ্কেল মচকে যাওয়ায় আজ আর ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি তিনি। ফলে ইনিংস উদ্বোধনে তানজিদ হাসানের সঙ্গী হন আগের টেস্টে আট নম্বরে ব্যাট করা নাঈম হাসান।

শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৯ ওভারের মধ্যেই ফিরে যান দুই ওপেনার। প্রথম ১৩ ওভারের ১০টিই মেডেন খেলেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের ১৫তম বলে প্রথম রান পাওয়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেনও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ১৮ রান করে শামার জোসেফের বলে বোল্ড হয়ে যান।

অপরাজিত থেকে দিন শেষে মাঠ ছেড়েছেন মুশফিক ও হৃদয়

দিনের শেষে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি বাংলাদেশের। উইকেটে থিতু হয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। ১০৪ বলের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তাঁরা যোগ করেছেন ৩৭ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা লাইন-লেন্থ খুব একটা হারাননি। তবু ধৈর্যের পরীক্ষায় আপাতত এগিয়ে বাংলাদেশের এই দুই ব্যাটসম্যান।

এই উইকেটে পুরোনো বলে ব্যাটসম্যানদের জন্য খুব বেশি বিপদ তৈরি করা কঠিন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসেই তা বোঝা গেছে। হৃদয় ও মুশফিক যদি সেই সুবিধাটা কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে প্রথম ইনিংসে খুব বেশি পিছিয়ে পড়ার কথা নয় বাংলাদেশের।

সিলেট টেস্ট: ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে দিন শেষ করল বাংলাদেশ

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।