আইন পেশায় সফল হতে হলে মানবিক মূল্যবোধ, পেশাগত দক্ষতা, সততা ও পূর্ণ অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, একজন মানুষ বিপদে পড়ে আইনজীবীর কাছে এলে নিজের আস্থা, বিশ্বাস, ভরসা, প্রত্যাশা ও স্বপ্ন তার হাতে তুলে দেন। তাই মক্কেলের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা না করে তার পক্ষে যথাযথ আইনি যুক্তি উপস্থাপন এবং পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই একজন আইনজীবীর প্রধান কর্তব্য।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনবিষয়ক ১৭তম হেনরি ডুনান্ট মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) ও আইইউবি যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। এ পেশায় শুধু অর্থ উপার্জনের চিন্তা করলে চলবে না; প্রয়োজন পূর্ণকালীন অঙ্গীকার, পেশাদারিত্ব, অধ্যবসায় ও নিবিড় গবেষণা। আদালতে প্রতিটি শব্দ ও যুক্তির গুরুত্ব রয়েছে। তাই একজন আইনজীবীকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও গবেষণার মাধ্যমে নির্ভুল তথ্য এবং শক্তিশালী আইনি যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে।
তিনি বলেন, মক্কেল কত টাকা পারিশ্রমিক দিলেন, সেটি বড় বিষয় নয়। বরং তার পক্ষে যথাযথ আইনি যুক্তি উপস্থাপন করা যাচ্ছে কি না, সেটিই একজন আইনজীবীর কাছে মুখ্য হওয়া উচিত। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়াকে আইনজীবীদের পেশাগত জাকাত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, আইন পেশায় মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকারের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, মানবাধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি বিস্তৃতভাবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগের প্রশ্নটি সামনে আসে।
তবে সময়ের সঙ্গে যুদ্ধের ধরন, ভাষা ও কৌশলে পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে যুদ্ধের প্রধান উপকরণ ছিল অস্ত্র, বোমা ও গুলি। বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ, বাণিজ্যিক বিরোধ, বাণিজ্য বন্ধ এবং ভিসা বিধিনিষেধের মতো বিষয়ও রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পরিবর্তিত বিশ্ববাস্তবতায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগ, দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও দায়িত্ব রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ও দায়িত্বের প্রতিফলন। তরুণদের মেধা, প্রজ্ঞা, যুক্তি, পরিশ্রম ও অঙ্গীকার দিয়ে দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বিশ্ব গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক এম. তামিম। বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেন, বাংলাদেশে আইসিআরসির হেড অব ডেলিগেশন নিকোলাস ফ্লুরি এবং আইইউবির স্কুল অব ল-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান।
প্রতিযোগিতায় দেশের ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯টি দল অংশগ্রহণের জন্য লিখিত আইনি যুক্তি ও গবেষণাপত্র (মেমোরিয়াল) জমা দেয়। সেখান থেকে নির্বাচিত ১৬টি দল কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
আয়োজকেরা জানান, এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, সশস্ত্র সংঘাতের সময় মানবিক সুরক্ষা এবং আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা অর্জনের সুযোগ পান। পাশাপাশি গবেষণা, বিশ্লেষণ ও আদালতে যুক্তি উপস্থাপনের দক্ষতা বিকাশেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স