গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ে বড় পতন শেয়ারবাজারে

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের 
পরাজয়ে বড় পতন শেয়ারবাজারে

— সবচেয়ে বেশি কমছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানির শেয়ারদর।
— ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ইলন মাস্কের টেসলা ও স্পেসএক্সে শেয়ারের বড় পতন।
— ইলন মাস্কের সম্পদ গতকাল দিন শেষে কমে ৮০ হাজার কোটি ডলারের নিচে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়ের পর বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উন্নয়নের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সে আশঙ্কায় গতকাল বৃহস্পতিবার এক দিনেই মার্কিন পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার কমে গেছে। যার প্রভাবে বড় দরপতনের মুখে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারও।

আজ শুক্রবার লেনদেন শুরু হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক কেওএসপিআই প্রায় ৯ শতাংশ কমে যায়। এর ফলে দেশটির প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন ২০ মিনিটের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এর আগে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে প্রযুক্তি খাতের প্রধান সূচক নাসডাক ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে যায়। গত ৬ অক্টোবর সূচকটি রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছিল। সে তুলনায় হিসাব করলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সূচকটি ১০ শতাংশ কমেছে।

গত বছরের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবারের আগপর্যন্ত নাসডাক সূচকের এত বড় দরপতন আর দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের অন্যান্য সূচকও বড় পতনের মুখে পড়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও ডাও জোনস সূচকও কমেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর ১ দিনে এ দুটি সূচকও এত বড় পতনের মুখে আর কখনো পড়েনি।

অথচ বুধবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা গিয়েছিল। সেদিন ডাও জোনস সূচক ১ হাজার ৫৬৯ পয়েন্ট বেড়েছিল। নাসডাক বেড়েছিল ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। যদিও তখন পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল পুরোটা সামনে আসেনি। নির্বাচনের ফলাফলে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর বৃহস্পতিবার ডাও জোনস সূচক ১ হাজার ৮৩৩ পয়েন্ট কমে যায়। বুধবার প্রধান সূচকগুলো বাড়লেও সেমিকন্ডাক্টর চিপ নির্মাতা ও এআই তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর ছিল নিম্নমুখী। এর ফলে প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বিক্রির হিড়িক লেগে যায়। এর প্রভাব পড়ে শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকগুলোতেও।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে শেয়ারের এ দরপতনের অন্যতম কারণ টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোসের জয়। এআই প্রযুক্তির বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের এ অঙ্গরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গুগল, মেটা, ওরাকল ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান সেখানে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। তবে নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোসে নির্বাচনী প্রচারের সময় অঙ্গরাজ্যে সাময়িকভাবে ডেটা সেন্টার (তথ্যকেন্দ্র) নির্মাণ বন্ধ রাখা এবং এ খাতে বিনিয়োগকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কিছু করছাড় প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

টেক্সাসের মতো যেসব অঙ্গরাজ্যে বড় বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ করছে, সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়ের পর এআই খাতের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা চিপ নির্মাতা ও তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সরঞ্জাম সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর শেয়ার ব্যাপক হারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম গতকাল এক দিনেই কমেছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর একটি সূচকও ১২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। প্রায় সাড়ে ছয় বছরের মধ্যে এক দিনে সূচকটি এত বড় পতন আর দেখেনি। এ ছাড়া ইলন মাস্কের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দাম কমেছে ১১ শতাংশ। তাঁর মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমেছে ৯ শতাংশ।

এদিকে টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের বড় দরপতনে কোম্পানি দুটির মালিক ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ বৃহস্পতিবার এক দিনেই ৮০০ কোটি ডলার কমে যায়। এর ফলে ওই দিন শেষে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৮০ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে। অথচ এক মাসের কম সময় আগে তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ট্রিলিয়নিয়ার বা এক লাখ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রায় ৪৫ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন ইলন মাস্ক। দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে কোনো ব্যক্তির এটাই সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অনুদান। তবে বিপুল অর্থ খরচ করেও ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় ঠেকাতে পারেননি তিনি। এ পরিস্থিতিতে তাঁর ব্যবসা–বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে, এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল বেরোতেই দেখা গেল, ইলন মাস্কের মালিকানাধীন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টেসলা ও মহাকাশযানসংশ্লিষ্ট কোম্পানি স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে। ফলে তাঁর সম্পদের মূল্যও দ্রুত কমতে থাকে। ফোবর্সের রিয়েল টাইম হিসাবে, আজ সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময়) ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।