গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৫ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

শুধুমাত্র প্রযুক্তির অগ্রগতি নয়, সেবায় রূপান্তরই লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
শুধুমাত্র প্রযুক্তির অগ্রগতি নয়, সেবায় রূপান্তরই লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, সেবা অনলাইনে পাওয়া গেলেই তা পুরোপুরি ডিজিটাল হয় না, ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য মাপতে হবে সেবা নাগরিকের জন্য কতটা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজলভ্য হলো তা দিয়ে, প্রযুক্তির সংখ্যা দিয়ে নয়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ‘ইউএন গভার্ন্যান্স ইনোভেশন সামিট: অ্যাডভান্সিং ফিউচার-রেডি ইনস্টিটিউশন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অষ্টম অধিবেশনের চ্যালেঞ্জিং কনভেনশনাল অ্যাপ্রোচেস টু গভার্ন্যান্স ইনোভেশন অ্যান্ড অ্যান্টিসিপ্যাটরি গভার্ন্যান্স’ শীর্ষক ক্রস-এক্সামিনেশন ডায়লগ-এ অংশগ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু প্রযুক্তি দিয়ে সরকারি প্রশাসন বদলানো যায় না। সংযোগ ভিত্তি হলেও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিই সংযোগকে জনকল্যাণে রূপ দেয়। নতুন প্রযুক্তি চালুর আগে সরকারকে প্রথমে সমস্যাটি বুঝতে হবে, বিদ্যমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পরীক্ষা করে অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমাতে হবে, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব স্পষ্ট করতে হবে এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।’

আলোচনাকালে ফকির মাহবুব আনাম তিনটি সক্ষমতার ওপর জোর দেন:
* সক্ষম প্রতিষ্ঠান: স্পষ্ট জবাবদিহি, আন্তঃসংযোগযোগ্য ডেটা সিস্টেম ও কার্যকর সমন্বয়।
* দক্ষ জনবল: নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও মানসিকতা।
* জনগণের আস্থা: শক্তিশালী ডেটা গভর্নেন্স, সাইবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা সুরক্ষা ও সহজলভ্য অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি নাগরিককে সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধ্য করবে না; বরং সরকারি ব্যবস্থাই নাগরিকের সঙ্গে খাপ খাওয়াবে।’

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘প্রযুক্তি নিজেই প্রাতিষ্ঠানিক বাধা চিহ্নিত করে সংস্কার ত্বরান্বিত করতে পারে। তাই বাংলাদেশ সংস্কার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।’

আলোচনা শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘কাগজভিত্তিক পদ্ধতিকে শুধু অনলাইনে তুলে দেওয়ার মানসিকতা থেকে সরে এসে নাগরিকের চাহিদা অনুযায়ী পুরো সেবা-প্রক্রিয়া নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এতে অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমছে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকার আরও সাড়াদানকারী, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক হচ্ছে।’

অধিবেশনে বাংলাদেশের মন্ত্রীসহ লেসোথোর মন্ত্রী মোয়েকেতসি মোৎসোয়ানে, মৌরিতানিয়ার ব্রাহিম বুলখেইর এবং মেক্সিকোর ক্যারোলিনা প্লাটা লোপেজ অংশগ্রহণ করেন। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের অধীন পাবলিক সার্ভিস ও সোশ্যাল ইনোভেশনবিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থার (এসএপিএসএসআই) উপ-চেয়ারম্যান জেহুন সালমানভ অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন।

সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, প্রশাসনিক উদ্ভাবন এবং জনসেবায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।