প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ এএম || প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠন করা হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন হারে মজুরি কার্যকরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে দ্রুত দায়িত্ব সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে ইন্ধনদাতাদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল মেডিকেল কলেজের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ অপরিহার্য। বিনিয়োগ ও বাণিজ্য কখনো অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না। দেশের স্বার্থে সবাইকে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা খতিয়ে দেখবে।
চীন-বাংলাদেশ যোগাযোগ করিডোর প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সরাসরি উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হলে চীন ও মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। যোগাযোগব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা গেলে চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ট্রাক চীনের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারবে। এতে দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্পর্কও জোরদার হবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে রপ্তানিতে শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না সরকার। পোশাকের বাইরে নতুন নতুন পণ্য রপ্তানির সুযোগ খুঁজে দেখা হচ্ছে। রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে সরকার কাজ করছে।
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ও সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের প্রায় দ্বিগুণ। দীর্ঘদিন পর স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির এক শতাংশের বেশি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায়ও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
মন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৮ থেকে ২০ বছরে সিলেটে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে পরামর্শক নিয়োগ শেষ হতে পারে। এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ১২০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল এবং এর অধীনে ২৫০ শয্যার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার অনুমোদনও পাওয়া গেছে।
সিলেটে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অসম্পূর্ণ ক্যান্সার হাসপাতালের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০টি বাড়বে। সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও কিডনি হাসপাতালের মতো বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে।
সিলেটকে আন্তর্জাতিক ডেন্টাল চিকিৎসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সাশ্রয়ী ব্যয়ে মানসম্মত ও আস্থাশীল চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি রোগীদের আকৃষ্ট করা সম্ভব। তুরস্কে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের জন্য বিভিন্ন দেশের মানুষ যাওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একইভাবে সিলেটেও উন্নত ডেন্টাল চিকিৎসাসেবা গড়ে তোলা সম্ভব। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের দেশে এসে দাঁতের চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা রয়েছে।
ডেন্টাল শিক্ষায় নারীদের অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল মেডিকেল কলেজের সর্বশেষ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ৩৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জনই নারী। চিকিৎসাশিক্ষায় নারীদের এই অংশগ্রহণ ইতিবাচক।
প্রতিষ্ঠানটির ১২ বছরের পথচলাকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অভিজ্ঞ শিক্ষক ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কলেজটি ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে সহযোগিতার সুযোগ থাকলে তিনি পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আল আমিন অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম।
এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ডেন্টাল কলেজের শিক্ষক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: কালবেলা