গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:০০ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

৬৮ হাজার গ্রামে পাঠাগার গড়ার স্বপ্ন, যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলন

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
৬৮ হাজার গ্রামে পাঠাগার গড়ার স্বপ্ন, যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলন

পাঠাগার শুধু বই পড়ার জায়গা নয়, এটি মুক্তচিন্তা ও সামাজিক পরিবর্তনের মূল কেন্দ্র। তাই প্রতিটি জনপদে পাঠাগারকে যুক্তিবোধের চর্চাকেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলন’–এর আত্মপ্রকাশ ও প্রথম জাতীয় সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘একটাই মন্ত্র জনগণতন্ত্র, একটাই যুক্তি শোষণমুক্তি’ স্লোগানে এই আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক এম এম আকাশ। তিনি বলেন, ‘আমরা শোষণমুক্ত ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শভিত্তিক বাংলাদেশ চাই। আমাদের নবীন প্রজন্মই সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।’

পাঠাগার আন্দোলনের সূচনাকে নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক এম এম আকাশ। তিনি বলেন, সঠিক ইতিহাস জানা এবং মানুষের মননশীলতা তৈরিতে পাঠাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মকে বইপড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে গ্রাম, শহর ও বস্তির ঘরে ঘরে পাঠচক্র গড়ে তুলতে হবে। শুধু মুঠোফোনে একা একা পড়া নয়; সম্মিলিত পাঠ ও পারস্পরিক আলোচনার মধ্য দিয়েই চিন্তা ও চেতনা শাণিত হয়। পাঠ থেকে পাওয়া জ্ঞানকে সামাজিক পরিবর্তন ও ন্যায়ের সংগ্রামে কাজে লাগাতে হবে।

লেখক ও গবেষক নিতাই দাস বলেন, মানুষের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, যুক্তিবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতা বাড়িয়ে আধুনিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভরতার কারণে মানুষ এখন গভীর পাঠ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নতুন পাঠাগার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিদ্যমান পাঠাগারগুলোকেও সক্রিয় করে তুলতে হবে।

ত্রৈমাসিক সাময়িকী ‘শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদক এ এন রাশেদা বলেন, ‘সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে পিছিয়ে পড়া ও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। তাদের জীবনসংগ্রাম ও বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা পাঠচর্চার অংশ করা দরকার। সাধারণ মানুষের সংকট ও লড়াই নিয়ে বই-পুস্তিকা প্রকাশ করা হলে পড়ার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়বে।’

শিশু-কিশোর ও মায়েদের এই আন্দোলনে যুক্ত করার তাগিদ দেন লেখক ও অধ্যাপক আবু তাহের খান। তিনি বলেন, সন্তানদের বই পড়ার উপকারিতা বোঝাতে প্রথমে মায়েদের সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের মধ্যে পড়ার আগ্রহ ও নতুন স্বপ্ন তৈরি করা জরুরি।

ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, ‘জ্ঞান হোক সবার, পাঠাগার হোক প্রতিটি জনপদে’ স্লোগানকে ধারণ করে তাঁরা দেশের ৬৮ হাজার গ্রামে পাঠাগার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। এর পাশাপাশি সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা আট হাজারের বেশি সুপ্ত পাঠাগারকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানান তিনি।

৭১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি

সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে সংগঠনটির ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শিক্ষাবার্তার সম্পাদক অধ্যাপক এ এন রাশেদা। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান রিপন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল।

সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আকমল হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রস্তুতি পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল। অনুষ্ঠানে সংহতি জানিয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স), বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা নিখিল দাস এবং বাংলাদেশ খেতমজুর সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর গণসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সূচনা হয়। আলোচনা শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সম্মেলন থেকে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে পাঠাগার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।