গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:৩৫ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় ২ মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় ২ মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা
২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রুট নির্বাচন করা হবে। এ ক্ষেত্রে যাত্রী চাহিদা, সম্ভাব্য সুফল ও আর্থিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরামর্শকরা প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতোমধ্যেই শেষ করেছেন। এখন বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘প্রস্তাবিত মনোরেল ব্যবস্থা রাজধানীর গণপরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। এটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও দক্ষ পরিবহনব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের চলাচল সহজ করবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় যাত্রী চাহিদা বেশি থাকে তাদের চলাচল আরও সহজ করবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত মনোরেল রুটগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান ও পরিকল্পনায় থাকা মেট্রোরেল এবং অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সংযোগ স্থাপনের সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে মেট্রোরেলের যাত্রীদের গন্তব্যের শেষ অংশে যাতায়াত সহজ করতে এসব সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’ ডিটিসিএ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলের মডেল ভিত্তিক সমীক্ষা চালিয়ে যাত্রী চাহিদা নিরূপণ করেছে। পরে বিশ্লেষণের জন্য এসব তথ্য বুয়েটের পরামর্শকদের দেওয়া হয়েছে বলে জানান মশিউর রহমান। তিনি জানান, ঢাকা মহানগর অঞ্চলে গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে মনোরেল রুটের সমন্বয় এবং এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ডিটিসিএ ‘কনসালট্যান্সি সার্ভিস ফর প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি অব মনোরেল অ্যালাইনমেন্ট ইন্টিগ্রেশন উইথ মাস ট্রানজিট নেটওয়ার্কস ইন ঢাকা মেট্রোপলিটন রিজিয়ন’ শীর্ষক পরামর্শক চুক্তি করেছে। বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি) প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৬ মাসের মধ্যে বিস্তারিত নকশা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রস্তাবিত দুটি মনোরেল রুটের বিস্তারিত নকশা প্রণয়নে সরকার রাজস্ব বাজেট থেকে ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।   সমীক্ষাটির লক্ষ্য হলো, ঢাকায় মনোরেলভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বিদ্যমান ও পরিকল্পনায় থাকা মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে এর কার্যকর সংযোগের উপায় নির্ধারণ করা। হালনাগাদ সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (আরএসটিপি) প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ৫টি মনোরেল রুটের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রুট তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন এবং পুরো সমীক্ষা ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত রুটগুলো হলো, পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা (২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার), মধ্য বাড্ডা-ভুলতা (১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার), রামপুরা-ডেমরা (১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার), মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা (১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার) এবং উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার (১৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার)। এ ছাড়া প্রস্তাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত ৯টি স্টেশনসহ মনোরেল-৮, আলুব্দী থেকে পশ্চিম আগারগাঁও অথবা শ্যামলী পর্যন্ত ১০টি স্টেশনসহ মনোরেল-১০ এবং পল্টন থেকে সদরঘাট অথবা ঝিলমিল পর্যন্ত ৬ বা ১১টি স্টেশনসহ মনোরেল-১৩ এর কথা উল্লেখ রয়েছে। বুয়েটের এক পরামর্শক জানান, মহানগর এলাকার জন্য প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে তারা বিভিন্ন এলাকার জনসংখ্যা, স্টেশনগুলোর সম্ভাব্য যাত্রী-আকর্ষণ এলাকা, গণপরিবহন সেবার অপ্রাপ্যতা, যানজটপূর্ণ এলাকা, ডিপো নির্মাণের জন্য জমির প্রাপ্যতা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ পর্যালোচনা করেছেন।

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।