গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:৫৫ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ধ্বংস হয়ে গেল নাসার সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ধ্বংস হয়ে গেল নাসার সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ

উৎক্ষেপণের প্রায় ২২ বছর পর অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসে বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে নাসার স্পেস টেলিস্কোপ সুইফট। মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ গামা–রে বার্স্ট এবং অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তুর তথ্য সংগ্রহের জন্য ২০০৪ সালে ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড ওজনের সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন মহাকাশে সফলভাবে বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বর্ধিত সৌর কার্যকলাপের কারণে স্পেস টেলিস্কোপটির কক্ষপথ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেছিল।

ইউএস স্পেস ফোর্সের তথ্যমতে, সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ গত বুধবার সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা অঞ্চলের ওপরে থাকা বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বায়ুমণ্ডলে ঘর্ষণের ফলে টেলিস্কোপটির বেশির ভাগ অংশ পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে।

গত আগস্টে সুইফট স্পেস টেলিস্কোপটিকে রক্ষা করার জন্য তিন কোটি ডলার ব্যয়ে একটি উদ্ধারকারী মহাকাশযান পাঠিয়েছিল নাসা। মহাকাশযানটির মাধ্যমে টেলিস্কোপটিকে উচ্চতর কক্ষপথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। তবে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

নাসার প্রশাসক জারেড আইজ্যাকম্যান এক বিবৃতিতে জানান, মিশনটি মানুষের জানার পরিধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সুইফট দুই হাজারের বেশি গামা–রে বার্স্ট এবং ১ হাজার ৪০০টি বিস্ফোরিত তারা আবিষ্কার করার পাশাপাশি ধূমকেতু, গ্রহাণু ও কৃষ্ণগহ্বরের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে।

সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ ধ্বংসের বিষয়ে পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং মিশনের সঙ্গে যুক্ত জন নৌসেক বলেন, ‘আমরা সুইফট উৎক্ষেপণের আগ থেকেই এই দিনের কথা জানতাম। নিম্ন কক্ষপথে যা ওপরে ওঠে, তা নিচে নামবেই। আর সেই সমাপ্তি ধ্বংসাত্মক হয়।’

সুইফট স্পেস টেলিস্কোপের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল যেকোনো মহাজাগতিক বিস্ফোরণের দিকে দ্রুত ঘুরে যাওয়ার ক্ষমতা। আর তাই হাবল ও জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মতো বড় টেলিস্কোপগুলোর জন্য সুইফট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল।

সূত্র: ডেইলি মেইল

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।