গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৫ এএম

মহাকাশ নিয়ে কোরআনের বিস্ময়কর ৩ তথ্য

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
মহাকাশ নিয়ে কোরআনের বিস্ময়কর ৩ তথ্য

পবিত্র কোরআন মূলত জ্যোতির্বিজ্ঞানের কোনো বই নয়; এটি মানবজাতির হেদায়েত বা জীবনব্যবস্থার চূড়ান্ত নির্দেশিকা। কিন্তু কোরআনে আল্লাহ নিজের অসীম ক্ষমতার নিদর্শন বোঝাতে গিয়ে মহাবিশ্ব, গ্রহ-নক্ষত্র ও প্রকৃতির এমন কিছু তথ্য দিয়েছেন, যা দেড় হাজার বছর আগে মানুষের কল্পনারও অতীত ছিল।

আধুনিক বিজ্ঞান তার অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ ও প্রযুক্তির সাহায্যে আজ যেসব মহাজাগতিক সত্য আবিষ্কার করছে, কোরআন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় সেই সত্যগুলো ধারণ করে আছে।

মহাকাশ নিয়ে কোরআনের বিস্ময়কর ৩টি তথ্য তুলে ধরা হলো।

১. মহাবিশ্বের ক্রমাগত সম্প্রসারণ

প্রাচীনকালের বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের ধারণা ছিল মহাবিশ্ব স্থির বা এর আকার অপরিবর্তনশীল। ১৯২৯ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল টেলিস্কোপের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে মহাবিশ্ব স্থির নয়, বরং গ্যালাক্সিগুলো একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে।

আধুনিক বিজ্ঞানের এই ‘এক্সপান্ডিং ইউনিভার্স’ তত্ত্বের কথা কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন, ‘আমি স্বীয় ক্ষমতায় আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমিই এর সম্প্রসারণকারী।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ৪৭)

আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে সূর্যও স্থির নয়; বরং এটি তার পুরো সৌরজগৎ নিয়ে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে বিপুল বেগে ছুটে চলেছে।
যে আমানত আকাশ, পৃথিবী ও পাহাড় বহন করতে অস্বীকার করেছে

ইবনে কাসির এই আয়াতের ‘ইন্না লামুসিউন’কে (আমিই এর সম্প্রসারণকারী) ব্যাখ্যা করে লিখেছেন, ‘এর অর্থ হলো, আমি এর প্রশস্ততা বৃদ্ধি করেছি এবং আকাশকে পৃথিবীর ওপরে অনেক উঁচুতে ও বিশাল করে স্থাপন করেছি।’ (ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ৭/৪২৫, দারু তাইয়িবাহ, রিয়াদ, ১৯৯৯)

২. মহাজাগতিক বস্তুর নিজস্ব কক্ষপথে পরিভ্রমণ

একসময় মানুষের ধারণা ছিল পৃথিবী স্থির এবং সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। পরে বিজ্ঞানীদের ধারণা হয় সূর্য স্থির এবং পৃথিবী ঘোরে।

কিন্তু আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে সূর্যও স্থির নয়; বরং এটি তার পুরো সৌরজগৎ নিয়ে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে বিপুল বেগে ছুটে চলেছে।

কোরআন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মহাজাগতিক বস্তুসমূহের এই গতিশীলতার নিখুঁত তথ্য দিয়ে আসছে। আল্লাহ বলেন, ‘আর তিনিই রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টি করেছেন; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩৩)

সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩০‘যারা কুফরি করে, তারা কি ভেবে দেখে না যে আসমান ও জমিন (মহাবিশ্ব) এক বিন্দুতে মিশে (ওতপ্রোতভাবে যুক্ত) ছিল, অতঃপর আমিই তাদের আলাদা করে দিয়েছি...।
মেঘের গর্জন আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে

তাফসিরগ্রন্থে আয়াতের ‘ইয়াসবাহুন’ (সাঁতার কাটা বা বিচরণ করা) শব্দের চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তারা মহাশূন্যে এমনভাবে ভাসমান বা চলমান, যেমন পানিতে কোনো কিছু সাঁতার কাটে বা চলমান থাকে; অর্থাৎ তারা শূন্যে স্থির নয়।’ (আল-কুরতুবি, আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, ১১/২৮৬, দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যাহ, কায়রো, ১৯৬৪)

৩. মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও প্রাথমিক সংযুক্ত অবস্থা

আধুনিক বিজ্ঞানের ‘বিগ ব্যাং’ বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব অনুযায়ী, সৃষ্টির আদিতে পুরো মহাবিশ্ব একটি অতি-উত্তপ্ত ও ঘন বিন্দুতে পুঞ্জীভূত (সিঙ্গুলারিটি) অবস্থায় ছিল। এরপর এক মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে তা আলাদা হয়ে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, পবিত্র কোরআনে প্রায় হুবহু এই চিত্রটিই ফুটে উঠেছে।

আল্লাহ বলেন, ‘যারা কুফরি করে, তারা কি ভেবে দেখে না যে আসমান ও জমিন (মহাবিশ্ব) এক বিন্দুতে মিশে (ওতপ্রোতভাবে যুক্ত) ছিল, অতঃপর আমিই তাদের আলাদা করে দিয়েছি...।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩০)

ইমাম তাবারি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, ‘আসমান ও জমিন সৃষ্টির শুরুতে পরস্পর জোড়া লাগানো ছিল, তাদের মাঝে কোনো ফাঁকা স্থান ছিল না; এরপর আল্লাহ বাতাস বা শক্তির মাধ্যমে তাদের আলাদা করে শূন্যস্থানের সৃষ্টি করেন।’ (আত-তাবারি, জামিউল বয়ান ফি তাফসিরিল কুরআন, ১৭/১১, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ২০০০)

কোরআনে বর্ণিত মহাজগতের এসব বৈজ্ঞানিক নিদর্শন বারবার প্রমাণ করে যে এই গ্রন্থ কোনো মানুষের রচিত নয়; বরং এটি এমন এক সত্তার পক্ষ থেকে নাজিল হয়েছে, যিনি এই সুবিশাল মহাবিশ্বের একচ্ছত্র স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক।

কোরআনের প্রভাব কতটা শক্তিশালী

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।