গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা খাবার খাওয়ার লোভ হয়? কারণ ও প্রতিকার জানুন

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা খাবার খাওয়ার লোভ হয়? কারণ ও প্রতিকার জানুন

রাতের খাবার শেষ, পেটও বেশ ভরা। কিন্তু ঘুমাতে যাওয়ার আগেই আবার রান্নাঘরের আলমারি বা ফ্রিজের সামনে খাবারের খোঁজে দাঁড়িয়ে পড়া—এই অভিজ্ঞতা অনেকের জন্যই বেশ পরিচিত।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি-তে প্রকাশিত গবেষকদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রতিদিন রাতে খাবারের পর অতিরিক্ত স্ন্যাকস বা হালকা খাবার খেয়ে থাকেন। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার প্রায় ৮০ শতাংশ।

ক্যানাডার মনিটরিং ও লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিদ ড. ক্রিস্টিন বো লিউ জানান, ঘুমাতে যাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে খাবার গ্রহণ স্থূলতা ও ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রশ্ন হলো, পেট ভরা থাকা সত্ত্বেও কেন রাতে এমন তীব্র খাবারের লোভ জাগে? বিজ্ঞানীরা এর পেছনে হরমোন, মস্তিষ্কের রাসায়নিক ক্রিয়া ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ চিহ্নিত করেছেন।

কেন সন্ধ্যার পর খাবারের লোভ বাড়ে?

হরমোন ও জৈবিক ঘড়ির প্রভাব: যুক্তরাজ্যের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি ও শরীরবিজ্ঞান গবেষক প্রফেসর জেমস বেটস জানান, সারাদিন আমরা যে পরিমাণ খাবারই খাই না কেন, সন্ধ্যার দিকে মানবদেহে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুধা বা খাবারের আকাক্সক্ষা শীর্ষে পৌঁছায়। এর পেছনে কাজ করে ক্ষুধা সৃষ্টিকারী হরমোন ‘গ্রেলিন’, যা সন্ধ্যার দিকে শরীরে বৃদ্ধি পায়। সাধারণত সকালের নাস্তার পর গ্রেলিনের মাত্রা কমে এলেও, দুপুর বা রাতের খাবারের পর এটি তেমন একটা কমে না। ফলে রাতে শারীরিক প্রয়োজন না থাকলেও মস্তিষ্ক ক্ষুধার অনুভূতি তৈরি করে।

মিষ্টি ও ফ্যাটযুক্ত খাবারের প্রতি মস্তিষ্কের আকর্ষণ: রাতের বেলা শুধু ক্ষুধাই বাড়ে না, বরং ক্যালরিযুক্ত মিষ্টি ও চর্বিজাতীয় খাবারের প্রতি আগ্রহ তীব্র হয়। ড. বো লিউ-এর মতে, সন্ধ্যার দিকে আমাদের মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ অধিক সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা তৃপ্তির অনুভূতিকে ছাপিয়ে চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। তাই রাত ৯টায় বিস্কুট বা মিষ্টির দিকে হাত বাড়ানো কেবল ইচ্ছাশক্তির অভাব নয়, বরং এটি শরীরের বায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়ারই ফল।

অভ্যাস ও মানসিক প্রভাব: বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অপটিট বিশেষজ্ঞ প্রফেসর সুজান হিগস উল্লেখ করেছেন যে, পারিপার্শ্বিক অভ্যাস খাবারের লোভ বাড়িয়ে দেয়। যেমন, প্রতিদিন টিভি দেখার সময় স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস থাকলে, কেবল টিভি চালু করার সাথে সাথেই মস্তিষ্কে খাবারের তাড়না জাগে। এছাড়া রাতে ঘুম ভেঙে ক্ষুধা লাগার ভয় থেকেও অনেকে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন।

রাতের স্ন্যাকস কি ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়?

গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে অতিরিক্ত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও চিনিযুক্ত খাবার (যেমন—কেক, বিস্কুট, সাদা পাউরুটি) খেলে রক্তের শর্করার মাত্রায় বড় ধরনের ওঠানামা ঘটে, যা ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার সুর্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘুম ও বডি-ক্লক বিশেষজ্ঞ প্রফেসর জোনাথন জনস্টন জানান, ঘুমের ঘাটতি বা অপর্যাপ্ত ঘুম ক্ষুধা এবং উচ্চ-ক্যালরিযুক্ত খাবারের চাহিদা আরও বাড়িয়ে দেয়।

এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের কার্যকর প্রতিকার

বিশেষজ্ঞরা রাতের অনাকাঙ্ক্ষিত খাবারের লোভ সামলাতে এবং সুস্থ থাকতে নিচের পদক্ষেপগুলোর ওপর জোর দিয়েছেন:

১. দিনের খাবারে পুষ্টি নিশ্চিত করা: রাতের ‘ফুড ক্র্যাশ’ এড়াতে দুপুর ও রাতের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার ও পুষ্টিকর খাবার রাখুন, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

২. অসচেতনভাবে খাওয়া বন্ধ করা: টিভি দেখতে দেখতে বা মোবাইলে স্ক্রোল করতে করতে না খেয়ে মনোযোগ দিয়ে খাবার খান। অন্যমনস্ক হয়ে খেলে পরিমাণের হিসাব থাকে না।

৩. স্বাস্থ্যকর বিকল্প সহজলভ্য রাখা: রান্নাঘরের আলমারিতে আনহেলদি স্ন্যাকসের বদলে ফল, দই বা বাদাম রাখুন। ড. বো লিউ-এর পরামর্শ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো সহজে সামনে পেলে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে সেগুলো বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

৪. সংযম ও সঠিক পরিকল্পনা: রাতের স্ন্যাকস পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মাঝেমধ্যে পরিমিত পরিমাণে প্রিয় খাবার খাওয়া সুস্থ অভ্যাসেরই অংশ।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।