প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০১ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
বিশ্বজুড়ে প্রতি চার কিশোরের একজন সপ্তাহের কোনো দিনই শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকে না। এ ক্ষেত্রে কিশোরীদের অবস্থা আরও উদ্বেগজনক। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ’-এ প্রকাশিত এক বৈশ্বিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রায় ২৪ কোটি কিশোর-কিশোরী সপ্তাহের সাত দিনের কোনো দিনেই শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়নি। ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩২ লাখ কিশোর-কিশোরীর ওপর পরিচালিত ১৪০টি দেশের ৩৮৯টি জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি করা হয়েছে। এতে বিশ্বের মোট কিশোর জনগোষ্ঠীর ৫৯ শতাংশের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
গবেষণায় শারীরিকভাবে সক্রিয় দিন বলতে এমন দিনকে বোঝানো হয়েছে, যেদিন একজন কিশোর অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে খেলাধুলা, হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা স্কুলের শারীরিক কার্যক্রমও রয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে কিশোরদের শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার গড় দিনসংখ্যা সপ্তাহে ২ দশমিক ৭-এ অপরিবর্তিত রয়েছে। মাত্র ১৪ শতাংশ কিশোর-কিশোরী সপ্তাহের সাত দিনই সক্রিয় থাকে।
লিঙ্গভেদে এ ব্যবধান আরও স্পষ্ট। ২০২৫ সালে ছেলেরা সপ্তাহে গড়ে তিন দিন সক্রিয় থাকলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ২ দশমিক ৪ দিন। বয়স বাড়ার সঙ্গে মেয়েদের শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ কমে যায়। ফলে ছেলেদের সঙ্গে তাদের ব্যবধান আরও বাড়ে।
অঞ্চলভেদেও চিত্রে পার্থক্য রয়েছে। মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ, মধ্য এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কিশোরেরা সপ্তাহে গড়ে চার দিন সক্রিয় থাকে। অন্যদিকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এ হার তুলনামূলক কম।
ফিনল্যান্ড, কানাডা ও সার্বিয়ার কিশোরেরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। বিপরীতে কম্বোডিয়া, জর্ডান ও মাদাগাস্কারের কিশোরেরা সবচেয়ে কম সক্রিয়।
গবেষকদের মতে, নিরাপদ খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও হাঁটা-সাইকেল চালানোর উপযোগী পরিবেশের অভাব এ সমস্যার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক বিধিনিষেধ ও উপযুক্ত সুযোগের অভাব শারীরিক কর্মকাণ্ডে বাধা তৈরি করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য, ২০১০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যাপ্ত শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশ না নেওয়া কিশোরদের হার ১৫ শতাংশ কমানো। তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, কোনো দেশ বা অঞ্চলই বর্তমানে এ লক্ষ্য অর্জনের পথে নেই।
সূত্র: ইউরো নিউজ
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স