রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে ফের হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। হামলায় জড়িত কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে হামলার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়েছি। এই বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।
হামলার বিষয়ে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে প্রথম হামলার ঘটনায় মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, আজকের হামলায় সেই আগের সন্ত্রাসীরাই জড়িত। তাদের সঙ্গে স্থানীয় যুবলীগ নেতা বাবুল ও সন্ত্রাসী রুবেল জড়িত ছিল। বিষয়টি আমরা থানায় জানানোর পরে পুলিশ এসে ৭ থেকে ৮ জনকে আটক করে থানায় এনেছে।
সাইফুল আরও বলেন, আগের হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এবারের হামলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে নিরাপত্তা কর্মী ও মিস্ত্রীদের মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ কয়েকটি মোবাইল উদ্ধার করলেও প্রজেক্টের কাজে ব্যবহৃত ওয়াকিটকি এখনো উদ্ধার হয়নি ।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতেও নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালমান মুক্তাদিরের প্রকাশ করা ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ওই হামলার ঘটনার অন্যতম ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে চিহ্নিত মো. যুবরাজকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মিরপুরের দুটি সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে হামলার সমন্বয় করেন ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম ওরফে ‘কিলার’ ইব্রাহিমের বাহিনীর সদস্য যুবরাজ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বরের হামলার দিন ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বসে ১৩ জন হামলার পরিকল্পনা করেন। এ সময় মামলার ১ নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলার জন্য এক কোটি টাকার চুক্তি করেন। পরে ইব্রাহিম লোকজন সংগ্রহ করে হামলার দায়িত্ব দেন যুবরাজকে।
ওই ঘটনায় হামলার পরিকল্পনা ও সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হামলায় জড়িত আরও ৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স