গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

রাজনৈতিক বিভ্রান্তি, ভুল সিদ্ধান্ত ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার ঘাটতিই দেশে অস্থিরতা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগে অর্জিত বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে গণতন্ত্র, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রজ্ঞার চর্চা বাড়াতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ৫৫ বছর পরও দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা সমস্যা ভাবিয়ে তোলে। মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, দেশ সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে, তা নিয়ে আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দর্শন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যথাযথভাবে ধারণ করতে না পারলে রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

রাষ্ট্র পরিচালনায় জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করলেই রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না, এর জন্য প্রয়োজন গভীর উপলব্ধি ও দূরদর্শিতা। গণতন্ত্র একটি রাজনৈতিক দর্শন। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। গণতন্ত্রের সুবিধাজনক অংশ গ্রহণ করে অসুবিধাজনক অংশ বর্জনের সুযোগ নেই।

দেশে বিভিন্ন সময়ে প্রেসিডেনশিয়াল, পার্লামেন্টারি, সামরিক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালুর প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। অতীতের রাজনৈতিক ভুল ও বিভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে দেশ গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চান। সরকারি দপ্তরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় রোধ, সাধারণ জীবনযাপন এবং রাষ্ট্রীয় কাজে জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়ে তাঁর আগ্রহ রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সাদাসিধে জীবনযাপন, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কার্যক্রম না থাকা তাদের জন্য বেদনাদায়ক। এসব সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে আরও কী কী উদ্যোগ নেওয়া যায়, তা নিয়েও কথা বলবেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সবচেয়ে সম্মানিত ও শ্রদ্ধার মানুষ। তাদের যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। এ সময় তিনি সব বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

জেলা প্রশাসন ও রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নঈম আনসারী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

সভায় শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।