গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ পিএম

ইনকিউবেটরে আগুন, পুড়ল নবজাতকের শরীরের ৯৫ শতাংশ

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
ইনকিউবেটরে আগুন, পুড়ল নবজাতকের শরীরের ৯৫ শতাংশ
রাজধানীর চাঁনখারপুলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইনকিউবেটরে আগুন লেগে পাঁচ ঘণ্টা বয়সী নবজাতকের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোরে ‘রয়েল কেয়ার হাসপাতাল’ নামের ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে নবজাতকটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন শিশুটির বাবা মো. রাব্বানী। তার অভিযোগ, ইনকিউবেটরের অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দুর্ঘটনার সময় হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং এতে তাদের কোনো গাফিলতি ছিল না। শিশুটির বাবা মো. রাব্বানী জানান, শনিবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে তার সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর নবজাতকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত এনআইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ঢামেকের এনআইসিইউতে শয্যা খালি না থাকায় সেখানকার এক চিকিৎসকের পরামর্শে ওয়ার্ড বয়ের মাধ্যমে ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে শিশুটিকে চাঁনখারপুলের রয়েল কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাব্বানীর অভিযোগ, আনুষ্ঠানিক ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই নবজাতককে এনআইসিইউর একটি বেডে রাখা হয়। এ সময় তিনি ও তার ভাতিজা রেজাউল ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্রের কাজ করছিলেন। হঠাৎ চিৎকার শুনে ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন, শিশুটিকে রাখা মেশিনটিতে আগুন জ্বলছে। এতে নবজাতকের শরীরেও আগুন ধরে যায়। এ সময় হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মীদের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্বজনরা আগুন নিভিয়ে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মীর সহযোগিতায় শিশুটিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। তবে ঢামেকের চিকিৎসকরা শিশুটিকে আবার রয়েল কেয়ার হাসপাতালে ফেরত পাঠান বলে দাবি করেন স্বজনরা। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালটিতে গেলে দায় এড়ানোর অভিযোগে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাসপাতালের লোকজন তাদের মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাব্বানী বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে সিট না পেয়ে বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। কিন্তু ওদের অবহেলায় আমার পাঁচ ঘণ্টার বাচ্চার শরীর পুড়ে গেল। আমি এই কসাইদের বিচার চাই।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রয়েল কেয়ার হাসপাতালের ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, শিশুটিকে ভর্তি করার আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এটি নিছক দুর্ঘটনা। শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছি। এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল না। স্বজনদের মারধরের অভিযোগও সঠিক নয়। সেখানে অন্য রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। হাসপাতালের রিসিপশনিস্ট সানজিদা জানান, ভর্তির প্রক্রিয়া চলার সময় শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই তাদের উদ্যোগে শিশুটির স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও তাদের কাছে রয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তাজকিয়া হক জানান, নবজাতকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্বজনদের বারবার জানানো হলেও তারা তা মানতে চাইছেন না এবং চিকিৎসায় সহযোগিতা করছেন না। ঢামেকের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ড বয়রা জানান, হাসপাতালে এনআইসিইউর শয্যা খালি না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। এ ঘটনার দায় রয়েল কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বলে দাবি করেন তারা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। নবজাতকটি বর্তমানে ঢামেকের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।