তৃণমূল পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় মানিকগঞ্জ জেলার উদ্যোক্তা বাছাই কার্যক্রমে দেশের শীর্ষস্থানীয় আট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা অংশ নেবেন।
তাদের মূল্যায়ন ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে চূড়ান্ত অর্থায়নের জন্য নির্বাচিত হবেন সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তারা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আগামী ৮ থেকে ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে তিন দিনব্যাপী এ বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এতে মানিকগঞ্জ জেলার সব উপজেলার আবেদনকারী তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে সাক্ষাৎকার ও মূল্যায়নের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে অর্থায়নের জন্য উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ কর্মসূচি ‘উদ্যোগ’-এর লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি, স্বাবলম্বী সমাজ গঠন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা। কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে আটটি জেলার উদ্যোক্তা বাছাই কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ জেলার বাছাই পর্বকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ কার্যক্রমে মূল্যায়ক হিসেবে অংশ নেবেন দেশের পরিচিত ব্যবসায়ী ও করপোরেট ব্যক্তিত্বরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান রুবানা হক, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।
এ ছাড়া থাকছেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসের এজাজ বিজয়, অন্যরকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হাসান সোহাগ এবং পাঠাও লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ।
নবীন উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগ মূল্যায়নের পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ দেবেন এসব অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা। বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এ কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে নীতিগত সহায়তা ও বিশেষ অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ের আট জেলায় ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর দেশের বাকি ৫৬ জেলাতেও উদ্যোক্তা অনুসন্ধান ও আবেদনের কার্যক্রম চলছে। ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ প্রক্রিয়া চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
তৃণমূলের উদ্যোক্তাদের নীতিগত সহায়তা এবং বিশেষ এ অর্থায়ন নিশ্চিতের মাধ্যমে এই কার্যক্রম দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সার্বিক অর্থনৈতিক রূপান্তরে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সূত্র: কালবেলা