সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। এখন লাখো শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার ভাবছেন, এরপর কোন পথে? দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির পাশাপাশি অনেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নের গন্তব্য হিসেবে কানাডা নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। তবে সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া এই পথ পাড়ি দেওয়া কঠিন। নিজের অভিজ্ঞতা ও কানাডা সরকারের সর্বশেষ নিয়মের আলোকে এ লেখায় সেই বাস্তবতাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
আমার পথচলা: বাংলাদেশ থেকে কানাডার গবেষণাঙ্গনে—
বাংলাদেশ, চীন ও কানাডার মতো তিনটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, কানাডার শিক্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গবেষণাগারের সুযোগ, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং স্বাধীন চিন্তার চর্চা। কিন্তু এখানে কেউ হাত ধরে এগিয়ে নেয় না। সফল হতে হলে প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, আত্মনির্ভরশীলতা এবং দক্ষ সময় ব্যবস্থাপনা। ভালো ফল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমার দেখা সফল শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে গুণগুলো সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, সেগুলো হলো কৌতূহল, যোগাযোগদক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা।
কানাডায় মূল শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় সেপ্টেম্বরে। কিছু প্রতিষ্ঠানে জানুয়ারি বা মে মাসেও ভর্তি নেওয়া হয়। সেপ্টেম্বর সেশনের আবেদন সাধারণত আগের বছরের শেষ দিক থেকেই শুরু হয়ে যায়, আর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ডেডলাইন অনেক সময় আরও আগে থাকে। তাই অন্তত ১০ থেকে ১২ মাস হাতে রেখে পরিকল্পনা করা বুদ্ধিমানের কাজ।
এইচএসসির পর কী কী সুযোগ আছে—
বাংলাদেশের এইচএসসি সনদ দিয়েই কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্নাতক (ব্যাচেলর) প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। সাধারণত একটি ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করতে তিন থেকে চার বছর লাগে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, ফার্মাসিউটিক্যাল ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট বিষয়, কৃষি ও পরিবেশবিজ্ঞানে পড়ার সুযোগ আছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে অ্যাকাউন্টিং, ফিন্যান্স, মার্কেটিং, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং মানবিক বিভাগ থেকে অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে পড়ার সুযোগ আছে। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, ম্যাকগিল, ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা, ইউনিভার্সিটি অব অটোয়াসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ পান। তবে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নামডাক দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রোগ্রামের মান, পড়ার খরচ, শহরের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা—সবকিছু মিলিয়ে বিবেচনা করুন। অনেক সময় কম পরিচিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট বিভাগই আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হতে পারে।
প্রস্তুতি কখন শুরু করবেন—
আদর্শ হলো এইচএসসি পরীক্ষার আগেই প্রস্তুতি শুরু করা। প্রথম ধাপে নিজের আগ্রহের বিষয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে পাঁচ থেকে আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করুন।
কানাডায় মূল শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় সেপ্টেম্বরে। কিছু প্রতিষ্ঠানে জানুয়ারি বা মে মাসেও ভর্তি নেওয়া হয়। সেপ্টেম্বর সেশনের আবেদন সাধারণত আগের বছরের শেষ দিক থেকেই শুরু হয়ে যায়, আর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ডেডলাইন অনেক সময় আরও আগে থাকে। তাই অন্তত ১০ থেকে ১২ মাস হাতে রেখে পরিকল্পনা করা বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখে নিন বাংলাদেশের এইচএসসি সনদ কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়, কোন বিষয়গুলো আবশ্যক (যেমন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য উচ্চতর গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান) এবং ন্যূনতম কত নম্বর প্রয়োজন। মনে রাখবেন, শুধু জিপিএ-৫ থাকলেই ভর্তি বা বৃত্তি নিশ্চিত হয় না; প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামে বিষয়ভিত্তিক নম্বরও খুঁটিয়ে দেখা হয়।

ইংরেজিতে দক্ষতা: শুধু স্কোর নয়, ব্যবহারিক সক্ষমতা—
ইংরেজি মাধ্যমের অধিকাংশ কানাডীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়। সাধারণত আইইএলটিএস একাডেমিক, টোয়েফল আইবিটি বা প্রতিষ্ঠানস্বীকৃত অন্য কোনো পরীক্ষার ফল গ্রহণ করা হয়। অনেক স্নাতক প্রোগ্রামে আইইএলটিএসে সামগ্রিক ৬ দশমিক ৫ চাওয়া হয়, তবে বিভাগভেদে এই চাহিদা বেশি বা কম হতে পারে এবং প্রতিটি অংশে (রিডিং, রাইটিং, লিসেনিং, স্পিকিং) আলাদা ন্যূনতম স্কোরও থাকতে পারে। ফরাসিভাষী প্রতিষ্ঠানে পড়তে চাইলে ফরাসি ভাষার দক্ষতাও লাগতে পারে।
আমার পরামর্শ, শুধু পরীক্ষায় ভালো স্কোরের জন্য নয়, বাস্তবে ইংরেজিতে পড়া, লেখা, উপস্থাপনা ও আলোচনার দক্ষতা গড়ে তুলুন। কানাডার ক্লাসরুমে অ্যাসাইনমেন্ট, দলগত প্রকল্প, প্রেজেন্টেশন এবং ক্লাসে অংশগ্রহণের ওপর বড় অংশের নম্বর নির্ভর করে। প্রথম সেমিস্টারে যাঁরা হোঁচট খান, তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রেই সমস্যাটা মেধার নয়, যোগাযোগের।
আমার পরামর্শ, শুধু পরীক্ষায় ভালো স্কোরের জন্য নয়, বাস্তবে ইংরেজিতে পড়া, লেখা, উপস্থাপনা ও আলোচনার দক্ষতা গড়ে তুলুন। কানাডার ক্লাসরুমে অ্যাসাইনমেন্ট, দলগত প্রকল্প, প্রেজেন্টেশন এবং ক্লাসে অংশগ্রহণের ওপর বড় অংশের নম্বর নির্ভর করে।
আবেদনপ্রক্রিয়া—
১. বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন: অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন অংশে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা পাওয়া যায়। অন্টারিওর বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হয় অন্টারিও ইউনিভার্সিটিস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে; অন্য প্রদেশে সাধারণত সরাসরি প্রতিষ্ঠানে।
২. কাগজপত্র: এসএসসি ও এইচএসসির সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট, পাসপোর্ট, ভাষা পরীক্ষার ফল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিগত বিবৃতি। কিছু প্রোগ্রামে অতিরিক্ত প্রশ্নমালা, পোর্টফোলিও বা সাক্ষাৎকারও থাকতে পারে।
৩. ভর্তির চিঠি: নির্বাচিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় লেটার অব অ্যাকসেপ্ট্যান্স পাঠায়।
৪. প্রাদেশিক অনুমোদনপত্র (পিএএল): কানাডা ২০২৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিটের আবেদনের সংখ্যায় একটি জাতীয় সীমা (ক্যাপ) নির্ধারণ করেছে। স্নাতক পর্যায়ের অধিকাংশ আবেদনকারীকে তাই প্রদেশের দেওয়া প্রভিনশিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার (পিএএল) জমা দিতে হয়, যা সাধারণত ভর্তির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমেই পাওয়া যায়। এই চিঠি ছাড়া স্টাডি পারমিটের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে নেওয়া হয় না। কুইবেকে পড়তে চাইলে এর পাশাপাশি কুইবেক অ্যাকসেপট্যান্স সার্টিফিকেট (সিএকিউ) প্রয়োজন হয়।
৫. স্টাডি পারমিট: সব কাগজ হাতে পেলে কানাডা সরকারের (আইআরসিসি) কাছে অনলাইনে স্টাডি পারমিটের আবেদন করুন।

খরচ, আর্থিক প্রমাণ ও বৃত্তি—
কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়ার খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং এ বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার হিসাবে, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক স্নাতক শিক্ষার্থীদের গড় বার্ষিক টিউশন ফি প্রায় ৪১ হাজার ৭৪৬ কানাডীয় ডলার। তবে প্রদেশ, প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ভেদে পার্থক্য অনেক: অন্টারিওতে গড় প্রায় ৪৯ হাজার ৮০০ ডলার, আবার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে প্রায় ১৮ হাজার ৯০০ ডলার। ইঞ্জিনিয়ারিং বা কম্পিউটার সায়েন্সের মতো চাহিদাসম্পন্ন প্রোগ্রামে খরচ গড়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে।
স্টাডি পারমিটের আবেদনে তিনটি খরচ বহনের সামর্থ্য আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হয়: প্রথম বছরের টিউশন ফি, প্রথম বছরের জীবনযাপনের ব্যয় এবং যাতায়াত খরচ। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার পরে জমা দেওয়া আবেদনের ক্ষেত্রে কুইবেক ছাড়া অন্য সব প্রদেশে একক আবেদনকারীকে জীবনযাপনের জন্য ন্যূনতম ২৩ হাজার ৪৪৮ কানাডীয় ডলার দেখাতে হবে, যা টিউশনের অতিরিক্ত। কুইবেকের নিয়ম আলাদা। মনে রাখবেন, এটি শুধু প্রথম বছরের হিসাব; পুরো চার বছরের খরচ কীভাবে মেটাবেন, সেই পরিকল্পনা আগেই থাকা দরকার।
মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এন্ট্রান্স স্কলারশিপ, মেরিট স্কলারশিপ এবং কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা আছে। তবে স্নাতক পর্যায়ে পূর্ণ বৃত্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং সংখ্যায়ও সীমিত। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল বৃত্তির পাতা নিয়মিত দেখুন এবং ডেডলাইন খেয়াল রাখুন; অনেক বৃত্তির আবেদনের সময়সীমা ভর্তির আবেদনের চেয়েও আগে শেষ হয়।
পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ ও ক্যারিয়ার—
নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নিয়মিত সেমিস্টার চলাকালে ক্যাম্পাসের বাইরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। গ্রীষ্ম বা শীতের মতো নির্ধারিত ছুটিতে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ থাকে। তবে খণ্ডকালীন আয়ের ওপর ভরসা করে টিউশন ফি পরিশোধের পরিকল্পনা করা ঝুঁকিপূর্ণ। এই আয় দৈনন্দিন খরচে কিছুটা সহায়তা করতে পারে, কিন্তু টিউশনের মতো বড় অঙ্ক মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়, আর অতিরিক্ত কাজ পড়াশোনার ক্ষতিও করতে পারে।
পড়াশোনা শেষে যোগ্য শিক্ষার্থীরা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন, যা কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে সব প্রতিষ্ঠান বা প্রোগ্রাম এই সুবিধার আওতায় পড়ে না, তাই ভর্তির আগেই তা যাচাই করে নিন। আর স্পষ্ট করে বলা দরকার: কানাডায় পড়াশোনা করলেই চাকরি কিংবা স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা নেই। সেটি নির্ভর করে আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং তৎকালীন অভিবাসননীতির ওপর।
ধর্মীয় জীবন ও সামাজিক পরিবেশ—
অনেক অভিভাবকের মনে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন থাকে: বিদেশে গিয়ে সন্তান নিজের ধর্ম পালন করতে পারবে তো? পরিবেশই–বা কেমন হবে? কানাডার সংবিধানের অংশ ক্যানাডিয়ান চার্টার অব রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমস প্রত্যেকের বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। বহুসংস্কৃতির এই দেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ নানা ধর্মের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করেন।
বড় শহরগুলোতে মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জা সহজেই পাওয়া যায়, হালাল খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁও পর্যাপ্ত। কুইবেকের বাইরের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধর্মের জন্য প্রার্থনাকক্ষ (মাল্টিফেইথ রুম) আছে, আর মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষার্থী সংগঠন এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বেশ সক্রিয়। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে, বাসা খুঁজতে কিংবা প্রথম দিনগুলোতে সহায়তা পেতে এসব সংগঠন অনেক কাজে আসে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় উৎসব বা উপাসনার কারণে পরীক্ষা বা অ্যাসাইনমেন্টের সময় বদলের সুযোগও রয়েছে; সে ক্ষেত্রে আগেভাগে কোর্স শিক্ষককে জানাতে হয়।
তবে কুইবেকে পড়ার কথা ভাবলে একটি বিষয় জেনে রাখা জরুরি। প্রদেশটির নতুন ধর্মনিরপেক্ষতা আইনের কিছু বিধান ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে সেখানকার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে প্রার্থনাকক্ষ রাখা নিষিদ্ধ হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাম্পাসে প্রার্থনা করা ও মুখ ঢেকে রাখাও অনুমোদিত নয়। প্রতিষ্ঠানভেদে প্রয়োগের ধরন আলাদা হতে পারে, তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা দেখে নিন।
কিছু ব্যবহারিক দিকও মাথায় রাখা ভালো। শীতকালে দিন ছোট হওয়ায় নামাজের সময় ক্লাসের সূচির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হয়; আবার রমজান গ্রীষ্মে পড়লে রোজা ১৫ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যেতে পারে, শীতে তা অনেক ছোট। কেনাকাটার সময় খাবারের উপাদানের লেবেল পড়ার অভ্যাস করুন। আর সবচেয়ে বড় কথা, নিজের বিশ্বাস ধরে রেখেও ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা—কানাডার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে মানিয়ে নেওয়ার মূল চাবিকাঠি এটিই।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বলব, কানাডায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অবশ্যই দেখুন, তবে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে এগোন। দালাল বা অননুমোদিত এজেন্টের চটকদার প্রতিশ্রুতির বদলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কানাডা সরকারের অফিশিয়াল তথ্যের ওপর নির্ভর করুন। বিষয় নির্বাচন, ভাষাদক্ষতা, বৃত্তি অনুসন্ধান এবং আর্থিক প্রস্তুতিতে যথেষ্ট সময় দিন। কানাডার অভিবাসন ও শিক্ষার্থী-সংক্রান্ত নিয়ম প্রায় প্রতিবছর বদলায়, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বশেষ তথ্য নিজে যাচাই করুন।
সব শেষে মনে রাখবেন, বিদেশে পড়াশোনার প্রকৃত সাফল্য শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনে নয়; অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে নিজের এবং সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর মধ্যেই তার সার্থকতা।
*লেখক: ড. মো. রমীম তানভীর রহমান, পোস্টডক্টরাল গবেষক, অটোয়া হসপিটাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, কানাডা
সূত্র: প্রথম আলো