প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ফিরেছে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ। ঘোষিত মজুরি বোর্ডের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সম্মতির ঘোষণায় আন্দোলন থেকে সরে এসে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা। এতে পুরোদমে শুরু হয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, শফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, বাসন সড়ক, টঙ্গী, সালনা, বাংলাবাজারসহ শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে।
শ্রমিকরা জানান, সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ এবং তা বাস্তবায়নের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে তারা কাজে ফিরেছেন। নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে এবং শ্রমিকরা জানুয়ারি থেকে বর্ধিত বেতন পাবেন। এ ঘোষণার পর শ্রমিকদের মধ্যে কাজে ফেরার প্রবণতা বাড়ে। মালিক-শ্রমিকের সম্মতির ফলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কাটিয়ে শিল্পকারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
প্যারাগন সোয়েটারের নারী শ্রমিক রিনা আক্তার কালবেলাকে বলেন, ‘কয়েক দিনের অস্থিরতার পর আমরা আবারও কাজে যোগ দিয়েছি। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, শান্তি চাই। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বাঁচতে চাই।’
মস্কো গ্রুপের মেশিন অপারেটর সুমন মিয়া বলেন, ‘আমরা চাই কারখানাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলুক। আন্দোলন-সংঘর্ষ হলে শ্রমিকদেরই বেশি ক্ষতি হয়। মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে আমরা উপকৃত হব।’
এ ব্যাপারে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শ্রমিকরা যথারীতি কাজে যোগ দিয়েছেন। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্প পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।’
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) মো. সোহেল রানা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে
র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ মোট ২১ প্লাটুন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পাশাপাশি শিল্প পুলিশ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে দায়িত্ব পালন করছেন। শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে অক্টোবরের শেষে নতুন করে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ৩১ অক্টোবর সড়কে নামেন শ্রমিকরা। সেদিন বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকগুলো কারখানায় ছুটি ঘোষণা এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স