গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

নামের মিলে ১০ মাস কারাভোগ: নিরপরাধ আলমাসকে মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
নামের মিলে ১০ মাস কারাভোগ: নিরপরাধ আলমাসকে মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

নামের মিল ও ঠিকানার বিভ্রান্তিতে অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ভেবে প্রায় ১০ মাস ধরে কারাগারে থাকা নিরপরাধ মো. আলমাসকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারিক অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে, কারাগারে থাকা আলমাস ওই মামলার আসামি নন। অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামি মো. আলমাছ বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন হানিফ। অন্যদিকে, আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট তানভীর আহমেদ।

এর আগে গত ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে দাখিল করা বিচারিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামি মো. আলমাছ বিচারের শুরু থেকেই পলাতক। বর্তমানে তিনি কানাডায় অবস্থান করছেন। অথচ নাম ও ঠিকানার আংশিক মিলের কারণে তার পরিবর্তে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ঢাকার দোহারের কুসুমহাটির বাসিন্দা শেখ খলিলের ছেলে মো. আলমাস। তিনি ওই মামলার আসামি নন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার প্রকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. আলমাছ ঢাকার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব ধোয়াইর গ্রামের বাসিন্দা মো. খলিলুর রহমানের ছেলে। মিরপুর থানায় অস্ত্র আইনে করা একটি মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু নাম ও ঠিকানার আংশিক মিল থাকায় পুলিশ তাকে শনাক্ত করতে গিয়ে একই নামের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মো. আলমাস। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন আদালত। পরে আদালতের নির্দেশে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আলমাসের গ্রেপ্তারের পেছনে বেশ কিছু ভুল ও অসংগতি উঠে আসে। এতে বলা হয়, মূল মামলার ফরোয়ার্ডিং, পুলিশের প্রতিবেদন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির ঠিকানা উল্লেখের ক্ষেত্রে ভুল ছিল। ২০০৭ সালের আগে গ্রেপ্তার হওয়া আলমাস দক্ষিণ বাহ্রা ডাকঘরের অধীন বাহ্রা গ্রামে বসবাস করতেন। অন্যদিকে, মামলার প্রকৃত আসামি আলমাছের গ্রামের নাম পূর্ব ধোয়াইর, যা একই ডাকঘরের অধীন। ঠিকানার এই আংশিক মিল থেকেই পরিচয় শনাক্তে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

এ ছাড়া দুজনের পিতার নামেও আংশিক মিল ছিল। তবে বিস্তারিত পরিচয় যাচাইয়ে তাদের পিতা ও পিতামহের নাম আলাদা পাওয়া যায়। গ্রেপ্তার হওয়া আলমাসের পিতার নাম শেখ খলিল এবং পিতামহের নাম শেখ নওয়াব আলী। অন্যদিকে, মামলার প্রকৃত আসামি আলমাছের এজাহারে পিতার নাম খলিল আহম্মেদ এবং পিতামহের নাম শেখ শহর আলী উল্লেখ রয়েছে।

দুই ব্যক্তির পারিবারিক পরিচয়েও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। প্রকৃত আসামি আলমাছ তিন বোনের একমাত্র ভাই। আর কারাগারে থাকা আলমাসের দুই ভাই ও দুই বোন রয়েছেন। অর্থাৎ, নামের আংশিক মিল ছাড়া তাদের পারিবারিক পরিচয়ে তেমন কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে দুজনের বয়সের পার্থক্যও তুলে ধরা হয়। ২০০২ সালে প্রকৃত আসামি আলমাছের বয়স ছিল ২৪ বছর। সে হিসাবে ২০২৬ সালে তার বয়স হওয়ার কথা প্রায় ৪৮ বছর। অন্যদিকে, কারাগারে থাকা আলমাসের জন্ম ১৯৮৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। সে হিসাবে বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ৪১ বছর এবং ২০০২ সালে বয়স ছিল প্রায় ১৭ বছর। অর্থাৎ, দুজনের বয়সের ব্যবধানও প্রায় সাত বছর।

জীবনযাপন ও পেশাগত পরিচয়েও তাদের মধ্যে অমিল রয়েছে। মামলার প্রকৃত আসামি মিরপুরের পাইকপাড়ায় বসবাস করতেন। মিরপুর থানার মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে তার পেশার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। বিপরীতে, গ্রেপ্তার হওয়া আলমাস কৃষিকাজ ও ইলেকট্রিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।