গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৫ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:২০ এএম

ভুল পরিচয়ে গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর ধরে কারাগারে থাকা নিরপরাধ আলমাস অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
ভুল পরিচয়ে গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর ধরে কারাগারে থাকা নিরপরাধ আলমাস অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন

দুই যুগ আগের অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত মো. আলমাছের পরিবর্তে গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর ধরে কারাগারে থাকা নিরপরাধ মো. আলমাসকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এই আদেশ দেন।

নামের মিলে প্রকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবর্তে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন কারাগারে থাকা আলমাস।

দণ্ডিত আলমাছ কানাডায়, এক বছর ধরে কারাগারে নিরপরাধ আলমাস

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দিয়ে কারাগারে থাকা আলমাস এবং দণ্ডিত ব্যক্তির পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। আদেশে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তাঁর তত্ত্বাবধানে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অনুসন্ধান (তদন্ত) পরিচালনা করতে বলা হয়। আদেশ পাওয়ার তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আলমাস এই মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নন। প্রকৃত আসামি আলমাছ বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন।

আগের ধারাবাহিকতায় রিটটি আদালতের আজকের কার্যতালিকা আদেশের জন্য ওঠে। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ ও আবদুল্লাহ আবু সাঈদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিহাব উদ্দিন খান ও সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল মহিউদ্দীন মো. হানিফ।

‘নামের মিলে ১০ মাস ধরে কারাগারে, প্রকৃত আসামি কে তদন্তের নির্দেশ’ শিরোনামে প্রথম আলোয় গত ৪ অক্টোবর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুজনেরই নাম একই। দুজনের বাবার নামেও আংশিক মিল রয়েছে। অস্ত্র আইনের একটি মামলায় ২২ বছর আগে মো. আলমাছ নামের একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। সেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন একজন, তাঁর নাম মো. আলমাস।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন

গ্রেপ্তার হওয়া আলমাস এবং মিরপুর থানার অস্ত্র আইনের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আলমাছ দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনের সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার আলমাস অস্ত্র আইনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি নন। পলাতক আলমাছ মিরপুর থানার অস্ত্র আইনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন।

ভুল ব্যক্তি গ্রেপ্তারের পেছনে তিন কারণ

প্রতিবেদনের সার্বিক আলোচনা ও বিশ্লেষণে বলা হয়, সরেজমিনে অনুসন্ধানসহ সংশ্লিষ্ট মামলার নথি পর্যালোচনা করে এটি সুস্পষ্ট যে ভুল ব্যক্তি, তথা আলমাস গ্রেপ্তার হওয়ার পেছনে তিনটি বিষয় রয়েছে।

প্রথমত, গ্রেপ্তার আলমাস সপরিবার ২০০৭ সালের আগে ঢাকা জেলার দোহারের দক্ষিণ বাহ্রা ডাকঘরের অধীন বাহ্রা গ্রামে বসবাস করতেন। অপরদিকে প্রকৃত আসামির গ্রাম পূর্ব ধোয়াইরও একই ডাকঘরের অধীন। ফলে ডাকঘরের নামে পরিচয় দেওয়ার প্রচলনের কারণে দুজনের ঠিকানা এক হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, উভয়ের বাবার নামে অনেকাংশে মিল আছে। প্রকৃত আসামির বাবার নাম মো. খলিলুর রহমান (খলিল)। আর গ্রেপ্তার করা ব্যক্তির বাবার নাম শেখ খলিল। এই নামের সাদৃশ্য পরিচয় নির্ধারণে বিভ্রান্তি বাড়িয়েছে।

তৃতীয়ত, ২০০২ সালে করা অস্ত্র মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আলমাছের ঠিকানা ভুলক্রমে ‘পূর্ব ধোয়াইর’-এর স্থলে ‘দক্ষিণ বাহ্রা’ লেখা হয়, যা পরবর্তী নথিতেও বহাল থাকে। মামলার রায় শেষে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাতেও আসামি আলমাছের ঠিকানা ‘পূর্ব ধোয়াইর’–এর পরিবর্তে ‘দক্ষিণ বাহ্রা’ লেখা হয়ে যায়।

দুই যুগ আগের মামলা

আলমাসের রিট আবেদন ও রিটে সংযুক্ত নথিপত্রের তথ্য বলছে, মো. আলমাছ (২৪) ও মো. নাজমুল আলম মামুনের (২২) বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় ২০০২ সালের ১০ এপ্রিল অস্ত্র আইনে মামলা করে পুলিশ।

মামলায় ২০০৪ সালের ১৯ জুন ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১১ রায় দেন। রায়ে মো. আলমাছকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে আসামির বর্তমান ঠিকানা মিরপুরের পাইকপাড়ার আহমেদনগর উল্লেখ করা হয়েছিল। অপর আসামি নাজমুল খালাস পান।

নথিপত্র থেকে জানা যায়, রায় ঘোষণার সময় আলমাছ পলাতক ছিলেন। তাঁর নামে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়।

২০২৪ সালের ২০ মার্চের পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতে আলমাসকে (বাবা শেখ খলিল) সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গত বছরের ৫ নভেম্বর আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান। সেই থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

দণ্ডিত আলমাছ কানাডায়, এক বছর ধরে কারাগারে নিরপরাধ আলমাস

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।