গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি আরবের বিমান হামলায় নিহত ৩৩, আহত অনেকে

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি আরবের বিমান হামলায় নিহত ৩৩, আহত অনেকে

ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে একটি এলাকায় সৌদি আরবের বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন সংবাদ সংস্থা সাবা গতকাল শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

গত জুলাইয়ে সৌদি আরব ও ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনি গোষ্ঠীটির মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরুর পর গতকালের এ ঘটনাকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলা হচ্ছে।

রয়টার্স এ ঘটনার বিবরণ স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি। সৌদি আরবের সরকারি যোগাযোগ ও গণমাধ্যমবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন’ জানিয়েছে, তারা এ খবরের সত্যতা যাচাই করে দেখছে।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তির ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও সানা নিয়ন্ত্রণকারী হুতিদের মধ্যে হামলা অনেকটাই বন্ধ হয়েছিল।

ইয়েমেনের হুতি–নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলাগুলো সানার পূর্বাঞ্চলে হুতিদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বানি হুশাইশ শহরের আবাসিক ঘরবাড়িতে আঘাত হেনেছে। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

কিন্তু জুলাইয়ে ওই যুদ্ধবিরতি ভেঙে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। এর পর থেকে হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইয়েমেনে নিজেদের মিত্র সরকারি বাহিনীর সমর্থনে হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে রিয়াদ।

ইয়েমেনের হুতি–নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলাগুলো সানার পূর্বাঞ্চলে হুতিদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বানি হুশাইশ শহরের আবাসিক ঘরবাড়িতে আঘাত হেনেছে। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

হুতিদের ওপর ব্যাপক হামলা, বড় অভিযানের পরিকল্পনা সৌদির
ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে বানি হুশাইশেতে বিমান হামলায় আহত এক বালককে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে চিকিৎসা দিচ্ছেন এক চিকিৎসাকর্মী। ৭ নভেম্বর ২০২৬

সানার সেহাতুনা হাসপাতালের পরিচালক আবদুল–আজিজ আল–দাইলামি বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকে আছেন। প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসা কয়েকজন উদ্ধারকর্মীও চাপা পড়েছেন।

—আবদুল–আজিজ আল–দাইলামি, সানার সেহাতুনা হাসপাতালের পরিচালকআমরা বেশ কয়েকজন এমন আহত ব্যক্তিকে পেয়েছি, যাঁদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাঁদের মাথা, বুক ও পায়ে আঘাত লেগেছে। কারও কারও হাড়ও ভেঙে গেছে।

এই চিকিৎসক রয়টার্সকে বলেন, ‘একটার পর একটা হামলা চলছেই। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই আবার হামলা হচ্ছে। এমনকি আমরা আমাদের নিজেদের কয়েকজন চিকিৎসাকর্মীও হারিয়েছি। তাঁরা হামলায় নিহত হয়েছেন।’

সৌদি মিত্ররা একজোট, হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুতি বিদ্রোহীরা

আল–দাইলামি আরও বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকজন এমন আহত ব্যক্তিকে পেয়েছি, যাঁদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাঁদের মাথা, বুক ও পায়ে আঘাত লেগেছে। কারও কারও হাড়ও ভেঙে গেছে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে এ লড়াই আবারও ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে উসকে দিয়েছে। এ গৃহযুদ্ধ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি সৃষ্টি করেছে এবং আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশটিকে খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলেছে।

গত অক্টোবরে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছিল, সর্বশেষ দফার লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দুই লাখ ছাড়িয়েছে।

সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি, আহত ৩০৯
সৌদি আরবে যা ঘটেছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়: ট্রাম্প

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।