হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে যাওয়া ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কে বেপরোয়া যান চলাচল যেন থামছেই না। নির্ধারিত গতিসীমা না মানায় একের পর এক প্রাণ হারাচ্ছে বন্যপ্রাণী। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে পড়ছে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের জীবনও।
গত ৫ নভেম্বর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের মসজিদের পাশে রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাকচাপায় একটি বানর মারা যায়। এর কয়েক দিন আগে, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে চুনারুঘাট-সাতছড়ি রোডের চণ্ডীছড়া এলাকায় সড়কের পাশে আরেকটি মৃত বানর পড়ে থাকতে দেখা যায়। মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল প্রাণীটির। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বেপরোয়া যানবাহনের ধাক্কাতেই এর মৃত্যু হয়েছে।
এর আগেও একাধিক গণমাধ্যমে সাতছড়ির ভেতরের সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার গতিসীমা অমান্য করে বানর, হরিণ, সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী চাপা পড়ে মারা যাওয়ার কথা উঠে এসেছে।
তখন বন বিভাগ ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা নানা আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। উল্টো বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনায় বন বিভাগের উদাসীনতাই বেশি চোখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বনাঞ্চল সংলগ্ন সড়কে এখনো অধিকাংশ যানবাহন গতিসীমা মানছে না। বিশেষ করে ভারী ট্রাক ও মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচলে ঝুঁকি আরও বেড়েছে। রাস্তা পার হওয়ার সময় বানর, সাপ, খরগোশসহ নানা বন্যপ্রাণী দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অতিরিক্ত গতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রামগঙ্গা ও চণ্ডীছড়া এলাকায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসেন। বনাঞ্চল সংলগ্ন সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল তাদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।
পরিবেশবিদদের মতে, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে যেন জীববৈচিত্র্য ধ্বংস না হয়, সেদিকে পর্যটক, চালক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে। বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচলে বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা, সড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বশীল আচরণের কোনো বিকল্প নেই।
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জার মনিরুল করিম বলেন, ‘আমি সবে মাত্র জয়েন দিয়েছি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা লোকাল লোকজন নিয়ে একটি মানববন্ধন করব এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট বিতরণ করব। বণ্যপ্রাণী রক্ষায় যা যা করা দরকার অবশ্যই সেই মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী বলেন, ‘ফরেস্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা চালানো, নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং বন্যপ্রাণীদের জন্য বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।’
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স