গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

পরিবেশ রক্ষা করে মাতারবাড়ীকে উন্নত অর্থনৈতিক হাব করা হবে: মুখ্য সচিব

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
পরিবেশ রক্ষা করে মাতারবাড়ীকে উন্নত অর্থনৈতিক হাব করা হবে: মুখ্য সচিব

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও মহেশখালীর অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটির সভাপতি এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেছেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে মাতারবাড়ীকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক, শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। এ লক্ষ্যে মহেশখালীর অগ্রাধিকারভিত্তিক মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীসহ মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) অধিক্ষেত্রাধীন বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে মাতারবাড়ীকে অর্থনীতি, শিল্প, জ্বালানি ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি যোগ্য ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাতারবাড়ীর উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করছে। গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি মাতারবাড়ীতে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ, পুনর্বাসন এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সকালে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটির সদস্যরা মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভূমিভিত্তিক এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল, এলপিজি স্টোরেজ, তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ), বিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিট, তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, ড্রাইডক ও শিপইয়ার্ড নির্মাণের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন। এছাড়া মিডার নিজস্ব কার্যালয় নির্মাণ এবং প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য চিহ্নিত এলাকাও ঘুরে দেখেন তারা।

পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যা ৬টায় কক্সবাজার সার্কিট হাউসে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে কুতুবদিয়া মহেশখালী আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সদস্য, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মিডার সদস্য এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় স্থানীয় সরকার, অর্থ, পরিকল্পনা, শিল্প, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, সড়ক পরিবহন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

উল্লেখ্য, মিডার অধিক্ষেত্র ও সন্নিহিত এলাকায় ২০২৯ সালের মধ্যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ উচ্চপর্যায়ের এ সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা এবং বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করতে এ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়।

মিডার মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, মহেশখালীর চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৩২ হাজার একর এলাকাকে চারটি কৌশলগত অর্থনৈতিক হাবে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো- গভীর সমুদ্রবন্দর ও লজিস্টিকস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিল্প ও উৎপাদন এবং মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন হাব।

২০২৬ থেকে ২০৫৬ সাল পর্যন্ত তিনটি পর্যায়ে এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে (২০২৬-২০৩০) গভীর সমুদ্রবন্দর, জ্বালানি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে এ এলাকায় সিপিজিসিবিএলের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) চালু রয়েছে। অন্যদিকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের টার্নিং বেসিন ও টার্মিনাল নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।