দেড় যুগ আগে ঢাকায় হওয়া বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় চাকরি হারিয়েছিলেন কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ভিরাল্লা গ্রামের খোরশেদ আলম। এরপর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় ২০১৭ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। কঠোর পরিশ্রমে প্রবাসে গড়ে তুলেছিলেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি সৌদি আরবের আবহা শহরে সুদানের দুই নাগরিকের ছুরিকাঘাতে খুন হন খোরশেদ। কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরেছে তার মরদেহ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ভিরাল্লা গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়।
নিহত খোরশেদ আলম ভিরাল্লা গ্রামের হাজী আনছর আলীর বাড়ির মৃত হাজী নুরুল ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের পর চাকরিচ্যুত হন খোরশেদ আলম। সে সময় খাগড়াছড়িতে কর্মরত ছিলেন তিনি। চাকরি হারানোর পাশাপাশি দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগও করতে হয় তাকে। পরে জীবিকার তাগিদে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। দেশটির আভা খামিজের মোসাইদ খালেদিয়া এলাকায় ফয়সাল আহমারী মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময় তিনি সেখানে লন্ড্রি ব্যবসায় শুরু করেছিলেন।
নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার বলেন, গত ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে দোকানের বকেয়া টাকা আদায় ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বাসিন্দা ও দোকানের কর্মচারী আহাদ মিয়ার সঙ্গে কয়েকজন সুদানের নাগরিকের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুদানের নাগরিকরা আহাদের ওপর হামলা চালালে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান খোরশেদ আলম। এ সময় সুদানের সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে খোরশেদ আলমকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করে।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল মতিন বলেন, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রমে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। স্থানীয় আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খোরশেদ আলম চার কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। এর মধ্যে দুজন বিবাহিত এবং অপর দুজন অবিবাহিত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অভিভাবককে হারিয়ে তার স্ত্রী ও কন্যাসন্তানসহ পুরো পরিবার এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স