গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

কেজি দরে বিক্রির জন্য রাতের আঁধারে নেওয়া হচ্ছিল হাটে, ভ্যানভর্তি সরকারি বই জব্দ

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
কেজি দরে বিক্রির জন্য রাতের আঁধারে নেওয়া হচ্ছিল হাটে, ভ্যানভর্তি সরকারি বই জব্দ

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কেজি দরে বিক্রি করা মাদ্রাসার সরকারি বই জব্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত পৌনে ৮টায় উপজেলার চন্ডিপুর এলাকা থেকে প্রায় ৪০০ কেজি চলতি বছরের বই জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় পার্বতীপুর মডেল থানায় শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনা তদন্তে এদিন রাতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির প্রধান হলেন পার্বতীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিরাজুল ইসলাম। অপর দুই সদস্য হলেন, উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার বিভাষ চন্দ্র বর্মন ও উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষা অফিসার মতিয়ার রহমান নিউটন।

তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৭ দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে মাদ্রাসার সুপার জহুরুক হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে আগামী ৩ দিনের মধ্যে জবাব চেয়েছেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ। ঘটনার তদন্তে শনিবার দুপুরে ওই মাদরাসা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিরাজুল ইসলাম। 

পার্বতীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মিরাজুল ইসলাম জানান, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, জব্দ তালিকায় নতুন ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের, পুরোনো বই ও পরীক্ষার খাতা রয়েছে।

জানা গেছে, গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে পার্বতীপুর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার পিন্টু কুমার দাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বইয়ের চালানটি জব্দ করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে বই বহনকারী ভ্যানচালক সাজেদুর রহমানকে (৩০) আটক করা হয়। সাজেদুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের ঘনেশ্যামপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে।

পার্বতীপুর মডেল থানার এসআই শাকিল হোসেন বলেন, উদ্ধার করা বইগুলো পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের ঘনেশ্যামপুর কুতুব মেমোরিয়াল দাখিল মাদরাসার। ওই মাদরাসার সরকারি এই বইগুলো শহরের পুরাতন বাজারে বিক্রি করতে না পারায় বসিরবানিয়া এলাকায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিল।

ঘনেশ্যামপুর কুতুব মেমোরিয়াল দাখিল মাদরাসার সুপার জহুরুল হক দাবি করেন, বিক্রির আগে রেজুলেশন করা হয়েছে। গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মাদ্রাসার পরীক্ষার খাতা ২০০ থেকে ২৫০ কেজি বিক্রি করা হয়েছে। এসব বিক্রির দায়িত্বে ছিল মাদরাসার অফিস সহায়ক কায়সার। তবে, মাদ্রাসার কোনো বই বিক্রি হয়নি।

পার্বতীপুর উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার বিভাষ চন্দ্র বর্মন জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে মাদ্রাসার ৪৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রথম শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত ৫ হাজার ৪০৫টি বই দেওয়া হয়েছে। ১৯৭৯ সালে পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের ঘনেশ্যামপুর কুতুব মেমোরিয়াল দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসায় ১৪ জন শিক্ষক ও ৫ কর্মচারী রয়েছেন। ২০০১ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়।

পার্বতীপুর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার পিন্টু কুমার দাস বলেন, ‘পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। জব্দকরা বইগুলো পরে পার্বতীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হেফাজতে নিয়ে যায়।’

পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ বলেন, ‘মাদ্রাসার সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

বিনামূল্যে বিতরণ করা পাঠ্যবই কোনো প্রতিষ্ঠান বিক্রি করতে পারে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত বই থাকলে তা বিক্রির জন্য নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কমিটি এসব বই নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারে।’

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।