প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০২ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
দাবিকৃত তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ সময় ওই ঠিকাদারকে মারধরও করেন তারা।
এই ঘটনায় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ চার জনের বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. রুস্তম হাওলাদার। রোববার (৮ নভেম্বর) তিনি এ অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাদলা প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা হলেন- বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোল্লা, তার সহযোগী ও বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের কর্মী সাকিব হাওলাদার, সজিব হাওলাদার ও মুবিন মোল্লা। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এয়ারপোর্ট থানাধীন মাধবপাশা ইউনিয়নের বাইপাস-হাদিবাসকাঠির ২৬শ মিটার পিচ ঢালাই সড়কের নির্মাণকাজে সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন ভুক্তভোগী রুস্তম হাওলাদার। গত শনিবার রাতে বাদলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তার নির্মাণকাজে বাধা দেন। কাজ চালিয়ে যেতে হলে তাকে তিন লাখ টাকা দিতে বলেন।
অভিযোগে বলা হয়, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার ছেলেসহ সঙ্গে থাকা অন্যদেরও মারধর করে সঙ্গে থাকা একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল নিয়ে যান অভিযুক্তরা।
ঠিকাদার রুস্তম হাওলাদার বলেন, বিএনপির ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোল্লা আমার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তিনি লোকজন পাঠিয়ে আমাকে মারধর করান এবং আমার মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেন।
অন্যদিকে, ঠিকাদারের মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার কথা অকপটেই স্বীকার করেন ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোল্লা।
তবে সেটা চাঁদাবাজি নয় দাবি করে তিনি বলেন, সড়কের কাজের অংশীদার আমি। সেখানে আমার বিনিয়োগ করা। রুস্তমের কাছ আমি টাকা পাবো। সেই টাকা আদায় করতে না পেরে তার মোটরসাইকেলটি নিজের কাছে এনে রেখেছি।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চাঁদার টাকা না পেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: কালবেলা