|
| |
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

বরাদ্দ না পেয়েও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাস, তালা দিল প্রশাসন

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
৪৪১ পঠিত
বরাদ্দ না পেয়েও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাস, তালা দিল প্রশাসন
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বরাদ্দ না পেয়েও আশ্রয়ণ প্রকল্পে বাস করা ছয় পরিবারকে বের করে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ঘরে ঢুকতে না পেরে নারী-শিশুদের নিয়ে আবাসন প্রকল্পের বারান্দায় অবস্থান নিয়েছেন পরিবারগুলো। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ভূমি অফিসের...

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বরাদ্দ না পেয়েও আশ্রয়ণ প্রকল্পে বাস করা ছয় পরিবারকে বের করে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ঘরে ঢুকতে না পেরে নারী-শিশুদের নিয়ে আবাসন প্রকল্পের বারান্দায় অবস্থান নিয়েছেন পরিবারগুলো।

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার স্বর্ণালী আক্তার বনবাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ থেকে পরিবারগুলোকে বের করে তালা লাগানো হয়। 

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে বনবাড়িয়া আবাসন প্রকল্প-২ নির্মিত হয়। ৫০টি গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এই আবাসন প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ পেয়েও বেশ কিছু পরিবার সেখানে বসবাস করছিল না। পরবর্তীতে সেখানের ঘরগুলোতে আশ্রয় নেয় কয়েকটি পরিবারগুলো। তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিল।

সম্প্রতি তাদের উচ্ছেদের ব্যাপারে ইউএনও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেয় কে বা কারা। অভিযোগের তদন্ত চলছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলা প্রশাসনের সার্ভেয়ার এসে ৬টি পরিবারকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। 

ভুক্তভোগী বনবাড়িয়া গ্রামের শহীদুল ইসলাম, রহমত আলী, তরিকুল ইসলাম, জহুরা খাতুন, নজরুল ইসলাম ও নয়ন বলেন, এসব ঘরের মালিক প্রায় ১০-১২ বছর আগে নিজেরাই ঘর ছেড়ে চলে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘরগুলো পরিত্যক্ত ছিল। আমরা মেরামত করে বসবাস করছি। এখন আমাদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া হলো, এখন আমরা কোথায় আশ্রয় পাব। যাওয়ার কোনো জায়গা নেই, বাধ্য হয়ে বারান্দাতেই কষ্ট করে থাকতে হচ্ছে। 

বনবাড়িয়া আবাসন প্রকল্প-২-এর সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, প্রকল্প-১-এর সাবেক সভাপতি সাইদ পরী, তার ছেলে মোক্তার প্রকল্প-২-এর একটি ঘর চেয়েছিলেন। ঘর না দেওয়ায় তারা ইউএনও বরাবর মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। আর অভিযোগের তদন্ত চলছিল। এ অবস্থায় রাতে এসে ওই পরিবারগুলোকে আশ্রয়হীণ করা হলো। 

উল্লাপাড়া ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার স্বর্ণালী আক্তার ঘরগুলো তালাবন্ধ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ওনাদের নামে দলিল নেই, বিনা অনুমতিতে রয়েছে। ইউএনওর মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিনে গিয়ে ঘরগুলো আমাদের তত্ত্বাবধানে নিয়েছি। 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার রায়হানুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে প্রশাসনিক একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পরবর্তী সিন্ধান্ত কী হয় সেটা জানাব। 

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আপনি আমাকে জানিয়েছেন, ইউএনওর সঙ্গে আমি কথা বলব। 

তিনি আরও বলেন, সব আশ্রয়ণ প্রকল্প- গুচ্ছগ্রামে মাদক কারবার ও সেবন হচ্ছে। সেখানে কারা দীর্ঘ সময় ধরে আসেন না, কারা ভাড়া দিচ্ছেন এগুলো নিয়ে লিখিত প্রতিবেদন আছে আমাদের কাছে। সেগুলো নিয়ে মিটিং হয়, সিদ্ধান্ত হয়। অলরেডি সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনো আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর যদি ফাঁকা থাকে সেগুলো যাকে দেওয়া হয়েছিল, তার নাম বাতিল করে নতুন কাউকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

সূত্র: কালবেলা