|
| |
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

রাজাবাড়ি ঘাটে কখনোই যাননি তাহসিফ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
২০৫ পঠিত
রাজাবাড়ি ঘাটে কখনোই যাননি তাহসিফ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যায় এক জুনিয়রের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। যাওয়ার আগে মাকে জানিয়েছিলেন, বন্ধুর সঙ্গে একটু কথা বলে আসবেন। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ‘আম্মু, আমি আসছি’ লিখে শেষবারের মতো বার্তা পাঠান তাহসিফ। পরে উত্...

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যায় এক জুনিয়রের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। যাওয়ার আগে মাকে জানিয়েছিলেন, বন্ধুর সঙ্গে একটু কথা বলে আসবেন। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ‘আম্মু, আমি আসছি’ লিখে শেষবারের মতো বার্তা পাঠান তাহসিফ। পরে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলালকে জানান, রাজাবাড়ির ঘাটে নদীতে একটি মরদেহ পাওয়া গেছে। তবে ওই এলাকায় তাহসিফ কখনো যাননি বলে দাবি করেছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কালবেলাকে দেওয়া বক্তব্যে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া, শেষ বার্তা এবং তার কর্মজীবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল।

তিনি জানান, ঘটনার দিন বিকেলে মা-বাবার জন্য কেনাকাটা করেছিলেন তাহসিফ। দিনের প্রায় পুরোটা সময় মায়ের সঙ্গে ছিলেন তিনি। বাসায় ফেরার পর সন্ধ্যার দিকে দ্বীপ নামে তার এক জুনিয়র ফোন করেন। পরে নিচে এসে কথা বলে যাওয়ার কথা মাকে জানিয়ে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি।

কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল বলেন, ‘তাহসিফকে (বিমানবাহিনী থেকে) বরখাস্ত করা হয়, আরও কিছু অফিসারকেও করা হয়। ওকে শৃঙ্খলাজনিত কারণে করা হয় বলে আমাদের জানানো হয়। তারপর সে প্রাইভেট জব করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, নেত্র নিউজে এবং অবশেষে সে ভার্গো টোব্যাকোতে কাজ করেছে।’

ছেলের স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সে অত্যন্ত জেন্টেল প্রকৃতির, অত্যন্ত সোশ্যাল। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক। যেদিনের ঘটনা, সে সারাদিন তার মায়ের সঙ্গে ছিল, শপিং করেছে, আমার জন্যও কিছু শপিং করেছে। সন্ধ্যার পরে দ্বীপ নামে ওর একটা বন্ধু ছোটভাই ওকে নিচ থেকে ডাকে। সে তার মাকে বলে, মা দ্বীপ আসছে, একটু কথা বলে আসি। এসব বলে নিচে যায়, আর ফেরেনি।’

তাহসিফের মা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো সাড়া পাননি বলে জানান বাবা। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে ওর মা অনেকবার চেষ্টা করেছে, ও ফেরেনি। এবং রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সে মেসেজ দিয়েছে, সে আসছে। “আম্মু, আমি আসছি”- এই রকম একটা মেসেজ দিয়েছে। এরপর থেকে তাকে আর লোকেট করতে পারিনি।’

ছেলেকে খুঁজতে বুধবার দুপুরের দিকে তুরাগ থানায় গিয়েছিলেন বলেও জানান কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। তার ভাষ্য, ‘আমি তুরাগ থানায় গিয়েছিলাম বুধবার দুপুরের দিকে। তারা (তুরাগ থানা) বললেন, এমন কোনো ব্যাড নিউজ নাই, আপনি নিশ্চিন্ত থাকেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সন্ধ্যার আগে, সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমার সঙ্গে কথা বললেন। আমার নাম, ছেলের নাম নিশ্চিত হয়ে তারপর আমাকে জানালেন যে, নদীতে ডেডবডি পাওয়া গেছে। এটা হলো রাজাবাড়ির ঘাটে। আটিপাড়া দিয়ে যেতে হয়। ওই এলাকায় আমার ছেলে কখনো যায়নি। এখন কারা বা কে তাকে হত্যা করেছে, এটা আমি জানি না।’

চাকরিচ্যুতির কারণ নিয়ে যা বললেন বাবা

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের ভিডিও শেয়ার করার কারণে তাহসিফকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তার বাবা বলেন, এ বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি তাহসিফের বিভাগই বলতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘এটা সে আদৌ করেছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের জানায়নি। এটা তার ডিপার্টমেন্ট বলতে পারবে। ওর ডিপার্টমেন্ট আমাদের সিম্পলি জানিয়েছে, এটা ডিসিপ্লিন অর্গানাইজেশন, ওর ইনডিসিপ্লিনারি কাজের কারণে ওকে ইস্তফা দেওয়া হয়েছে।’

ছেলে কোনো হুমকি বা ভয়ভীতির কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল বলেন, ‘সে হুমকি-ধমকির বিষয়ে আমাদের কিছু বলেনি। সে বলেছিল যে, সে একটু আশঙ্কা করছে। হুমকি বা থ্রেটের বিষয়ে সে কিছুই বলেনি।’

সূত্র: কালবেলা