|
| |
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে গ্রামবাসীর চাঁদায় খেলার মাঠের জমি ক্রয়

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
৩৭৫ পঠিত
তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে গ্রামবাসীর চাঁদায় খেলার মাঠের জমি ক্রয়
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
টাঙ্গাইলে মাদকের ছোবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে গ্রামবাসীর চাঁদায় কেনা হয়েছে খেলার মাঠের জমি। দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে গ্রামের মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে কেনা হয়েছে ৬০ শতাংশ জমি। নিজেদের খেলার মাঠের জমি বুঝে পেয়ে বাদ্যযন্ত্র বা...

টাঙ্গাইলে মাদকের ছোবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে গ্রামবাসীর চাঁদায় কেনা হয়েছে খেলার মাঠের জমি। দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে গ্রামের মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে কেনা হয়েছে ৬০ শতাংশ জমি। নিজেদের খেলার মাঠের জমি বুঝে পেয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটি বুঝে পেয়েছেন গ্রামবাসী।

জানা গেছে, গ্রামটিতে সাত শতাধিক পরিবারের বসবাস। জনসংখ্যা সাড়ে ৩ হাজারের বেশি হলেও দীর্ঘদিন ধরে ছিল না কোনো নির্দিষ্ট খেলার মাঠ। ফলে ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করলেও নতুন করে ফসলের আবাদ শুরু হলে বন্ধ হয়ে যেত তাদের খেলার সুযোগ। দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেন গ্রামের সন্তান এস এম ইকবাল মাহমুদ ও ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম। কয়েক মাস আগে তাদের আলোচনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় খেলার মাঠের জন্য জমি কেনার পরিকল্পনা। পরে গ্রামের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গত ৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে গ্রামবাসীকে নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সবাই জমি কেনার পক্ষে মত দেন। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

উদ্যোক্তারা জানান, গ্রামের কেউ দিয়েছেন ২০০ টাকা, কেউ ৫০০ বা এক হাজার টাকা। আবার কেউ দুই হাজার, পাঁচ হাজার কিংবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা করেছেন। ইকবাল মাহমুদ, খোরশেদ আলমসহ গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দিয়ে উদ্যোগটি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন।

সবার দেওয়া অর্থে গ্রামের ইকবাল হোসেন সুজনের কাছ থেকে ৬০ শতাংশ জমি কেনা হয়। প্রতি শতাংশ জমির দাম নির্ধারণ করা হয় ৫২ হাজার টাকা। জমির মালিকও এক শতাংশ জমি দান করেন। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটি গ্রামবাসীর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এ উপলক্ষে সকাল থেকেই গ্রামে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে জমিতে জড়ো হন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি গ্রামের প্রবীণদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন তরুণরা। দিনভর চলে আনন্দ-উৎসব।

উদ্যোক্তা খোরশেদ আলম বলেন, আপাতত ৬০ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। এর পাশে আরও ৬০ শতাংশ জমি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। মোট ১২০ শতাংশ জমি পাওয়া গেলে সেখানে একটি ভালো মানের খেলার মাঠ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এই মাঠকে কেন্দ্র করে গ্রামের ক্রীড়াচর্চা এগিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য।

নতুন মাঠ পেয়ে উচ্ছ্বসিত গ্রামের শিশু-কিশোরেরাও। তারা জানায়, আগে ধান কাটার পর খেতে খেলাধুলা করা গেলেও ফসলের আবাদ শুরু হলে আর খেলার সুযোগ থাকত না। এখন সারা বছর খেলার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা আনন্দিত।

গ্রামের প্রবীণ আব্দুল মান্নান ব্যাপারী বলেন, একটি খেলার মাঠের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেছেন। অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ায় গ্রামের সবাই আনন্দিত।

দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তাদের মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই গ্রামবাসীর এ উদ্যোগ। তিনি বলেন, খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি হলে শিশু-কিশোর ও তরুণরা মাদক থেকে দূরে থেকে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারবে।

অন্যদিকে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সহায়তা ছাড়াই গ্রামবাসীর নিজেদের অর্থায়নে জমি কেনার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা। তার মতে, বাবুপুরের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য গ্রামের মানুষকেও নিজেদের প্রয়োজনে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।

দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, গ্রামের আপামর জনসাধারণ ও প্রবাসীদের সম্মিলিত সহযোগিতা ও সম্মতিতে এ খেলার মাঠের জমি কেনা হয়েছে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই মাদকের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তারা যেন মাদকের পথে না গিয়ে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং গ্রামের শিশু-কিশোরদের জন্য একটি স্থায়ী খেলার পরিবেশ তৈরি হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ মাঠ থেকে ভবিষ্যতে ভালো মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে- এ প্রত্যাশা থেকেই সবাই মিলে জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স