|
| |
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

তাহসিফের মৃত্যু: ধাওয়া দেওয়া ব্যক্তিরা কি মাদক কারবারি, নাকি পুলিশ—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
২৯৮ পঠিত
তাহসিফের মৃত্যু: ধাওয়া দেওয়া ব্যক্তিরা কি মাদক কারবারি, নাকি পুলিশ—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
লাশ উদ্ধারের দুই দিন পরও মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ দীপের সঙ্গে বেরিয়েছিলেন তাহসিফ। দীপকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গত বৃহস্পতিবার রাতে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এটি তাহসিফের মোটরসাইকেল বলে ধারণা পুলিশের।

ঢাকার তুরাগ নদ থেকে লাশ উদ্ধারের দুই দিন পরও পুলিশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুরহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাহসিফ রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে বের হন। এরপর রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন, বাসায় ফিরছেন; কিন্তু আর ফেরেননি। পরদিন বুধবার বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

অজ্ঞাতনামা হিসেবে মরদেহ উদ্ধার হলেও পরে সঙ্গে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় জানতে পারে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার রাত নয়টা পর্যন্ত এ ঘটনায় রাজধানীর উত্তরখান থানায় কোনো মামলা হয়নি। নৌ পুলিশের পাশাপাশি পিবিআইসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে। নৌ পুলিশ ও পিবিআই বলেছে, তাহসিফের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বলেছেন, এটা আত্মহত্যা নয়। সরকার তদন্ত করলে প্রকৃত অপরাধীদের বের করতে পারবে।

বন্ধুর সঙ্গে বের হয়েছিলেন তাহসিফ

পিবিআই জানায়, তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে তাঁদের ভবনের নিচে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে তাহসিফের বন্ধু দীপ বলে শনাক্ত করেন। তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলানোর পর আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান।

কে এম তাহসিফ সাউরি

পিবিআই বলেছে, যেহেতু তাহসিফের সঙ্গে দীপ একসঙ্গে বের হয়েছিলেন, তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিবিআইয়ের এক পুলিশ সুপার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বলেছেন, ‘আমরা সেখানে (ঘটনাস্থল) কথা বলছিলাম। এ সময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেয়; আর আমি পালিয়ে আসি।’ ধাওয়া করা ব্যক্তিরা পুলিশের লোক বলে দীপ দাবি করেছেন।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, টঙ্গীর মাজার বস্তি বড় মাদক স্পট। হয়তো মাদক কারবারি কিংবা পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তাহসিফ ডুবে যেতে পারেন।

গতকাল পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, পোশাক পরা দুজন পুলিশ অফিসারকে দেখে তাঁরা দৌড়ে দুই দিকে চলে যান। ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা কারা, তাহসিফের মোটরসাইকেলটি এখানে কীভাবে এল, তা জানার চেষ্টা চলছে। তাহসিফের মৃত্যুর বিষয়ে দীপ অনেক কথা বলেছেন, এলোমেলো তথ্যও দিচ্ছেন। তাঁর এসব কথা যাচাই–বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

টঙ্গীর মাজার বস্তি থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধার

পুলিশ কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন বলেন, দীপের তথ্যের ভিত্তিতে তুরাগ নদ–সংলগ্ন টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন সুজুকি জিক্সার এসএফ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, তাহসিফ যে মোটরসাইকেলে বেরিয়েছিলেন, সেটিরও নম্বরপ্লেট ছিল না। দুটি মোটরসাইকেলের রং কালো। বিআরটিএ কার্যালয়ে যাচাইয়ের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে দীপকে নিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল তুরাগ নদ–সংলগ্ন রাজাবাড়ি ঘাট ও টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা পরিদর্শনে যায়। তাদের সঙ্গে নৌ পুলিশের সদস্যরাও ছিলেন।

দীপকে নিয়ে তুরাগ নদ–সংলগ্ন রাজাবাড়ি ঘাট ও টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা পরিদর্শন করেন পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা

একাধিক পিবিআই কর্মকর্তা জানান, তাহসিফ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় ছিলেন। এ সময় পুলিশের একটি দল ধাওয়া দিলে দীপ তুরাগ তীরে স্থাপিত বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে গিয়ে লুকান; আর তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন। এরপর সুযোগ বুঝে দীপ সেখান থেকে চলে আসেন। রাত আড়াইটার দিকে তিনি বাড়িতে ফেরেন।

পরিদর্শন শেষে টঙ্গী মাজার বস্তি–সংলগ্ন মাঠে অতিরিক্ত ডিআইজি সাংবাদিকদের বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বলেন, তাঁরা দুজনে এখানে এসেছিলেন। পুলিশের ইউনিফর্ম পরা দুজন লোককে দেখে তাঁরা দুজন দুই দিকে দৌড় দেন। তাঁরা এখানে মোটরসাইকেলে এসেছিলেন। এখানে কত সময় ছিলেন, কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে জানতে দীপকের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

তুরাগ নদের আশপাশে পরিদর্শন শেষে পিবিআইয়ের দল উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে তাহসিফের বাসায় যায়। এ বিষয়ে পিবিআই কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাহসিফের বাবা তদন্ত চালিয়ে যেতে বলেছেন। একটু চিন্তাভাবনা করে তিনি থানায় মামলা দেবেন।

সূত্র: প্রথম আলো