প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলঘর বিক্রির অভিযোগ
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫২ এএম
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কোনো ধরনের নিলাম বা টেন্ডার ছাড়াই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি সেমিপাকা টিনশেড ঘর ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইনামুল হক খানের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে না জানিয়ে এবং যথাযথ সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঘর দুটির ইট, টিন, কাঠসহ বিভিন...
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কোনো ধরনের নিলাম বা টেন্ডার ছাড়াই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি সেমিপাকা টিনশেড ঘর ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইনামুল হক খানের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে না জানিয়ে এবং যথাযথ সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঘর দুটির ইট, টিন, কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৩৯ নম্বর টিটা পানাইল চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের দুটি সেমিপাকা টিনশেড ঘর ভেঙে মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো প্রকাশ্য নিলাম বা টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। মালামালের মূল্য নির্ধারণ কিংবা বিক্রির বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ক্রেতারা এসব মালামাল ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুটি ঘরের মধ্যে একটির সম্পূর্ণ কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঘরটির ইট গাড়িতে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। অপর ঘরটির টিনের চালা ও বেড়াও খুলে নেওয়া হয়েছে।
এসময় ইট ভাঙার কাজে নিয়োজিত শিকারপুর গ্রামের হরেকৃষ্ণ মণ্ডল জানান, তিনি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক খানের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকায় ঘর দুটির ইট কিনেছেন। গত তিন দিন ধরে তিনি এসব ইট ভেঙে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মুসলিমা বেগম জানান, ঘর ভাঙা কিংবা মালামাল বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজের সিদ্ধান্তে ঘর দুটির মালামাল বিক্রি করেছেন। তার দাবি, ইট বিক্রি করা হয়েছে ১৯ হাজার টাকায়। এছাড়া ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে টিন, কাঠ ও খুঁটি বিক্রি করা হয়েছে। একজন শিক্ষক হয়ে এভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি করা ঠিক হয়নি।
সরকারি সাধারণ আর্থিক বিধিমালার ১৭৩ বিধি অনুযায়ী, সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া ১৯৮ বিধিতে সরকারি ভবন ভাঙা বা বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমোদনের বিধান রয়েছে। ফলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া ছাড়া সরকারি বিদ্যালয়ের ঘর ও মালামাল বিক্রির বিষয়টি আইনগত প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইনামুল হক খান বলেন, ‘ঘরগুলো টেন্ডার দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আর টেন্ডার দেওয়া হয়নি। ঘরের টিন ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। বিক্রির টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ে সুপারি গাছ লাগিয়েছি।’
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সরওয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি এইমাত্র জানতে পেরেছি। আগামী রোববার (১ নভেম্বর) সরেজমিনে তদন্তে যাব। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আলফাডাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কে এম তৈফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আগামী রোববার তদন্তের জন্য কর্মকর্তা পাঠানো হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সূত্র: কালবেলা