৩৫ উড়োজাহাজ কিনতে সরকারের সরাসরি কোনো অর্থ ব্যয় হচ্ছে না: বিমানমন্ত্রী
গণমাধ্যম ডেক্স
বোয়িং ও এয়ারবাস থেকে ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে সরকারের সরাসরি কোনো অর্থ ব্যয় হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভায় মন্ত্রী এই তথ্য জানান। এতে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের নিজস্ব আয় থেকেই পর্যায়ক্রমে এই অর্থ পরিশোধ করবে। এক্ষেত্রে সরকার শুধু গ্যারান্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।’
কমিটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যেসব শূন্য পদ রয়েছে, তা যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে দ্রুত সময়ে পূরণের সুপারিশ করে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিগত আট মাসে সিভিল এভিয়েশনের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং কেনাকাটার উপর প্রতিবেদন প্রদানেরও সুপারিশ করা হয় সভা থেকে। বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও ওই বৈঠকে জানানো হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সিভিল এভিয়েশন, বিমান ও পর্যটনের কেনাকাটা, বদলি, নিয়োগ এবং বিমান বন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকির লক্ষ্যে একজন আহ্বায়ক ও চারজন সদস্য করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট সাব-কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীন যে সব সংস্থা রয়েছে সেগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে আকস্মিক পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি আবুল কালাম সিদ্দিকী মন্ত্রণালয়ের স্বার্থে যোগ্যতাসম্পন্ন জনবলকে সঠিক জায়গায় পদায়নের সুপারিশ করেন।
সভায় বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘বিগত ২০ বছরে জবাবদিহিতার ধারাবাহিকতা বজায় না থাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে নানা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার যেকোনো ধরনের ক্রয় প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়ন ও উড়োজাহাজ কেনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এখনি ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন না করলে আগামী কয়েক বছর পর বিমান তীব্র উড়োজাহাজ সংকটে পড়বে। কারণ নতুন ক্রয় করা উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগবে এবং ততদিনে বর্তমান বহরের উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে গ্রাউন্ডেড হতে থাকবে।’
অতীতে যেসব অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করা হয়েছে, তার সঠিক তদন্ত করা হবে জানিয়ে বিমান মন্ত্রী বলেন, যে কোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বহাল থাকবে।
বগুড়া বিমানবন্দর প্রসঙ্গে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত কমিটিকে অবহিত করে বলেন, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য প্রায় ২০০০ একর জায়গার প্রয়োজন। ওয়াইড বডি (বড় আকারের উড়োজাহাজ) এয়ারক্রাফট উড্ডয়নের উপযুক্ত রানওয়ে প্রস্তুতের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বৈঠকে কমিটি সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ছাড়াও কমিটির সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী , লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, আলহাজ জসীম উদ্দীন আহমেদ, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার, মো. কামরুল হাসান এমপি ও মো. আবু তালিব অংশ নেন।
কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স