|
| |
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

চাকরিদাতাদের প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত কর্মক্ষেত্র বদলে দিচ্ছে এআই: মেটলাইফের গবেষণা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
২৯৫ পঠিত
চাকরিদাতাদের প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত কর্মক্ষেত্র বদলে দিচ্ছে এআই: মেটলাইফের গবেষণা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
মেটলাইফ বাংলাদেশ তাদের এমপ্লয়ি বেনেফিটস ট্রেন্ডস স্টাডির (ইবিটিএস) দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন আনছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত কর্মীরা এ প্রযুক্তি গ্রহণ করছেন। গবেষণার ফলাফলে কর্মীদের আর্থিক সুস্...
মেটলাইফ বাংলাদেশ তাদের এমপ্লয়ি বেনেফিটস ট্রেন্ডস স্টাডির (ইবিটিএস) দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন আনছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত কর্মীরা এ প্রযুক্তি গ্রহণ করছেন। গবেষণার ফলাফলে কর্মীদের আর্থিক সুস্থতা ও অবসর জীবনের প্রস্তুতির গুরুত্ব বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। একইসঙ্গে, জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়োগদাতারা আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন, এমন প্রত্যাশাও বাড়ছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া কর্মীদের ৫৫ শতাংশ জানিয়েছেন যে, তারা দৈনন্দিন কাজে এআই ব্যবহার করেন। এদের মধ্যে ৯১ শতাংশ মনে করেন, এআই তাদের কর্ম-অভিজ্ঞতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে, বর্তমানে মাত্র ৫৮ শতাংশ নিয়োগদাতা কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে উৎসাহ বা সহায়তা দিচ্ছেন। আর্থিক চাপও কর্মীদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। আর্থিক চাপ তাদের কর্মদক্ষতায় প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন এমন কর্মীর হার ২০২৫ সালের ৫৬ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে বেড়ে ৭২ শতাংশ হয়েছে। একইসঙ্গে, বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ বা ব্যয়ের সময় ৭২ শতাংশ কর্মী নিয়োগদাতার সহায়তা প্রত্যাশা করেন। এ সময় চাকরি নিয়ে সন্তুষ্টির হার ৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৩ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ব্যক্তিগত চাহিদাভিত্তিক সুযোগ-সুবিধার প্রতি আগ্রহ ৬৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৬ শতাংশ হয়েছে। বিমা ও সুস্থতা-সংশ্লিষ্ট সুবিধাও কর্মীদের আনুগত্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ৭৯ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, এ ধরনের সুবিধা তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আরও অনুগত করে তুলবে, যা ২০২৫ সালে ছিল ৭৮ শতাংশ। তবে অবসরজীবনের প্রস্তুতি এখনো উদ্বেগের বিষয়। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের মধ্যে যাদের অবসর পরিকল্পনা নেই, তাদের হার ২০২৫ সালের ৫৩ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে বেড়ে ৮১ শতাংশ হয়েছে। এদিকে, ৮৫ শতাংশ নিয়োগদাতা মনে করেন কর্মীদের জন্য দেওয়া সুযোগ-সুবিধা ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা ২০২৫ সালে ছিল ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালে পরিচালিত এ গবেষণায় তৈরি পোশাক, ব্যাংকিং, এফএমসিজি, টেলিযোগাযোগ, খুচরা বিক্রয়, উৎপাদন, এনজিও ও প্রযুক্তি খাতের মোট ৭০৯ জন অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ৫৮৩ জন কর্মী এবং ১২৬ জন নিয়োগদাতা ছিলেন। গবেষণাটি কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তিত প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত ও সংকট-সহনশীল কর্মীবাহিনী গঠনে কর্মী-সুবিধার ভূমিকা সম্পর্কে একটি সমন্বিত চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনটির ফলাফল সম্পর্কে মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, ‘ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র শুধু নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের বিষয় নয়। কাজের জগতে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সেটি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়বারের মতো পরিচালিত আমাদের এই গবেষণায় বাংলাদেশের নিয়োগদাতা ও কর্মী, উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে, যা পরিবর্তিত চাহিদা, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। আমরা বিশ্বাস করি, এসব তথ্য নিয়োগদাতাদের আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে এবং কর্মীদের নিজেদের প্রয়োজন আরও ভালোভাবে বুঝতে ও তুলে ধরতে সহায়তা করবে। প্রযুক্তি, আর্থিক নিরাপত্তা, সুস্থতা এবং প্রাসঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ের মাধ্যমে আরও সম্পৃক্ত, সংকট-সহনশীল এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব।’ গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত করছে যে বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্র এমন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে এআই ব্যবহারের প্রস্তুতি, কর্মীদের সুস্থতা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্কৃতি ক্রমেই একে অপরের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে উঠছে। প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং কর্মীদের পরিবর্তিত প্রত্যাশার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমন্বিত সুবিধা এবং অর্থবহ কর্মী-সহায়তা কর্মীদের সম্পৃক্ততা, আনুগত্য এবং ব্যবসায়িক সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

সূত্র: কালবেলা