|
| |
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

যেখানে সারা বছর ৬০০ টাকায় বাটার জুতা কেনা যায়, বছরে বিক্রি ১ লাখ জোড়া

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৩০ এএম
২৭২ পঠিত
যেখানে সারা বছর ৬০০ টাকায় বাটার জুতা কেনা যায়, বছরে বিক্রি ১ লাখ জোড়া
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকা থেকে গত শনিবার বিকেলে বাসে করে কারওয়ান বাজার আসেন শিহাব উদ্দিন। উদ্দেশ্য কারওয়ান বাজারে বাটার একটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ভালোমানের জুতা কেনা। কিন্তু বাটার জুতা কিনতে সেই মিরপুর থেকে কারওয়ান বাজারে কেন?

শিহাব বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। তিনি টিউশনি করে নিজের খরচ চালান। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য নতুন জুতা কেনা প্রয়োজন। কিন্তু হাতে বেশি টাকা নেই। এক বন্ধুর কাছে শুনেছেন যে কারওয়ান বাজারে মেট্রোস্টেশনের পাশে বাটার শোরুমে বিশেষ ছাড়ে সারা বছর জুতা বিক্রি হয়। এ জন্য এখানে এসেছেন।

অবশ্য জুতা কিনতে শিহাবের লম্বা পথ আসার কষ্ট একেবারে বৃথা যায়নি। মাত্র ৬০০ টাকায় এক জোড়া জুতা কিনেছেন তিনি। জুতা কিনে ফেরার পথে শিহাব প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে এসে আমার খুবই উপকার হলো। এই জুতা অন্য শোরুম থেকে কিনলে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার টাকা লাগত। প্রায় ৬০ শতাংশ ছাড়ে কিনতে পেরেছি।

শিহাবের মতো অনেকেই এখানে আসেন কম দামে জুতা কিনতে। বাটার এই শোরুমটি কারওয়ান বাজারে বিএসইসি ভবন এবং মেট্রোস্টেশনের পাশে অবস্থিত। বিক্রয়কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বিভিন্ন ধরনের জুতার প্রকৃত মূল্যের ওপরে ৫০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় রয়েছে।

কারা কেনেন এই জুতা

শোরুমটিতে জুতার দরদামের খোঁজখবর নেওয়ার সময় কথা হয় হাফিজুর রহমানের সঙ্গে। তিনি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা। থাকেন সাভারে। গত শনিবার বন্ধের দিনে প্রয়োজনীয় কাজে কারওয়ান বাজার এলাকায় এসেছিলেন। কাজ শেষে ফেরার পথে এই শোরুমে ঢুঁ মেরেছেন।

জানতে চাইলে হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার চাকরির শুরুর দিকে যখন বেতন কম ছিল, তখন থেকে এখানে আসি। এটা তো বাটার জুতাই। কাজ চলে যায়। বাইরের নন-ব্র্যান্ড জুতার চেয়ে এটি তুলনামূলক ভালো। তবে সব সময় আমার পায়ের সাইজের জুতা পাওয়া যায় না। এ জন্য মাঝেমধ্যেই এখানে আসি।’

হাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘বিশেষ করে যাঁরা নতুন চাকরি শুরু করেছেন, (যাঁদের আয় কম) ও শিক্ষার্থীদের ফরমাল জুতার প্রয়োজন হয়, তাঁদের জন্য এটি খুব ভালো একটি জায়গা।’

আরেক ক্রেতা জাকির হোসেন কারওয়ান বাজারে একটি পাঁচতারকা হোটেলে চাকরি করেন। তিনি ৮০০ টাকায় একটি শু কিনেছেন। এটির মূল দাম ছিল ১ হাজার ৯৯৯ টাকা। জাকির হোসেন বলেন, ‘এ নিয়ে চারবার আমি এ শোরুম থেকে জুতা কিনেছি। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও এখান থেকে জুতা কিনেছি।’

এখান থেকে নেওয়া জুতার মান কেমন ছিল, জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, ‘একটু উনিশ-বিশ হতে পারে। তবে মান ভালোই বলা যায়। অনেক দিন ধরে এখান থেকে কেনা জুতা ব্যবহার করছি।’

শোরুমের কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষই এখানে আসেন। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষজনের আনাগোনা বেশি থাকে।

দাম কতটা কম

বাটার এই শোরুম ঘুরে দেখা যায়, এখানে চামড়ার তৈরি শু, জুতা, স্যান্ডেল, স্পঞ্জ বিক্রি হয়। আবার কৃত্রিম চামড়ার তৈরি কেডস, জুতাও রয়েছে এখানে। এই শোরুম থেকে বছরে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ জোড়া জুতা বিক্রি হয়।

বাটার এই শোরুমে বিভিন্ন ধরনের জুতার প্রকৃত মূল্যের ওপরে ৫০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হয়। এই অফার সারা বছরই চলে। চামড়ার জুতা ও শুয়ের দাম সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা (ছাড়কৃত মূল্যে) পর্যন্ত আছে। তবে বেশির ভাগ জুতা ২৫০-৬০০ টাকায় কেনা যায়। আর কেডস ও শু বিক্রি হয় ১০০০-১২০০ টাকায়।

শোরুমজুড়ে একটি উল্লেখযোগ্য জায়গা দখল করে আছে ছেলেমেয়েদের স্কুল জুতা। এসব জুতা ছাড়কৃত মূল্যে ৩০০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়, যার প্রকৃত দাম ৮৯৯-৯৯৯ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন কারখানার কর্মীদের নিরাপত্তা জুতা বা সেইফটি শু বিক্রি হয় ৯০০ টাকা দামে, যার প্রকৃত মূল্য ২ হাজার ২০০ টাকা। বাটার শোরুমে হাস পাপিসের শু ও নর্থস্টারের স্নিকার দেখা গেল। এর মধ্যে হাস পাপিসের ছাড়কৃত মূল্য ২ হাজার এবং নর্থস্টারের দাম ৭০০ টাকা রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া বাটার ঐতিহ্যবাহী চামড়ার জুতা ও ফ্লোর স্যান্ডেল ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। আর স্পঞ্জ স্যান্ডেলের দাম রাখা হয় মাত্র ৪৫ টাকা।

তবে জুতা কিনতে এসে সংশয়েও থাকেন অনেক গ্রাহক। গত শনিবার সন্ধ্যায় এই শোরুমে এসেছিলেন সানজিদা আক্তার নামের একজন ক্রেতা। তিনি শোরুমটিতে বেশ কিছুক্ষণ ঘুরেও জুতা না কিনে ফেরত যাচ্ছিলেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম না যে এখানে এত ছাড়ে জুতা বিক্রি হয়। তবে এসে দেখলাম অনেক কম দাম। কিন্তু বেশ কিছু জুতার মান কমে গিয়েছে বলে মনে হয়েছে। টাকা খরচ করে কিনলে ভালো হবে কি না মনে এই সন্দেহ থাকায় শেষমেষ জুতা না কিনেই ফিরছিলাম।’

কেন এই মূল্যছাড়

বাটার শোরুমের এক কর্মী জানান, বাটার কারখানায় জুতা উৎপাদনের পরে সেগুলোর মান যাচাই করা হয়। মান যাচাইয়ে (কিউসি) যেসব জুতা আটকে যায়, সেগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ভালো জুতাগুলো এই শোরুমে ছাড়কৃত মূল্যে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়।

ওই কর্মী আরও বলেন, ‘আপনি সাধারণ চোখে জুতা তৈরির এই ভুল হয়তো ধরতে পারবেন না। মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জুতার মতোই অনেকটা টেকসই হয়। তবে কোনো জুতায় খুব বড় ত্রুটি থাকলে সেটি এখানেও বিক্রির জন্য আনা হয় না।’

জানা গেছে, রাজধানীতে বাটার মূল্যছাড়ের এমন দোকান একটিই। এর বাইরে টঙ্গীতে বাটার কারখানার সামনে এমন আরেকটি শোরুম রয়েছে। সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কারওয়ান বাজারের বিক্রয়কেন্দ্রটি খোলা থাকে। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধ।

সূত্র: প্রথম আলো