যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আজ, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা
গণমাধ্যম ডেক্স
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণে সোমবার শেষ মুহূর্তের প্রচার চালিয়েছেন কংগ্রেসের প্রার্থীরা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের আগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হবে। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে তাদের চ্যালেঞ্জ বেশি।
কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ডেমোক্র্যাটদের নজরদারি ও তদন্তের সুযোগ বাড়বে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তারা সুপ্রিম কোর্টসহ ফেডারেল আদালতে ট্রাম্পের মনোনীত বিচারকদের নিয়োগও আটকে দিতে পারবে।
নির্বাচনের আগে রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, কংগ্রেস নির্বাচনে ৪৬ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৮ শতাংশ।
এদিকে আগাম ভোটেও রেকর্ড হয়েছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন গবেষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল পর্যন্ত সরাসরি ও ডাকযোগে ৫ কোটি ৭০ লাখ ভোট পড়েছে। ২০২২ সালের পুরো মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট পড়েছিল ৪ কোটি ৫০ লাখ।
মিশিগানে উত্তেজনা
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মধ্যে সিনেটের লড়াই ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। চিকিৎসক ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হবেন।
ডেমোক্র্যাট প্রাথমিক নির্বাচনে এল-সায়েদের কাছে হেরে যাওয়া কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেনস রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার পর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও উত্তপ্ত হয়। এর জবাবে এল-সায়েদের প্রচার শিবির জানিয়েছে, রোববার এক দিনেই তারা ২৪ লাখ ডলার অনুদান পেয়েছে।
এল-সায়েদ মিশিগানে জন্ম নেওয়া মিসরীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম। ট্রাম্প ও অন্য রিপাবলিকান নেতারা তার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাকে সন্ত্রাসীদের সমর্থক বলে অভিযোগ করেছেন। এল-সায়েদ এসব অভিযোগের প্রতিবাদ করেছেন।
সোমবার প্রচারে রজার্স এল-সায়েদকে ‘চরমপন্থী’ বলে আখ্যা দেন। অন্যদিকে এল-সায়েদ বিভিন্ন বিভাজন দূর করে ঐক্য গড়ার আহ্বান জানান।
আলাস্কায় নির্বাচনী বিরোধ
আলাস্কায় সিনেট নির্বাচন ঘিরেও আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান অল্প ভোটে হেরে গেলে নির্বাচনের ফল অনুমোদন আটকে দেওয়ার আবেদন করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। একই নামের আরেক প্রার্থী ড্যানিয়েল জে. সুলিভান জুনিয়র ব্যালটে থাকায় ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন—এমন যুক্তি দিয়েছিল তারা। তবে রোববার এক ফেডারেল বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলার প্রচার শিবিরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সুলিভান জুনিয়রকে নির্বাচনে নামানোর অভিযোগ উঠেছে। পেলটোলা ও সুলিভান জুনিয়র দুজনই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে সুলিভান জুনিয়রকে অনুদান দেওয়া এক সমর্থক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে শুক্রবার এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তবে এ বিষয়ে এফবিআই কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: রয়টার্স
সূত্র: কালবেলা