চাইলেই সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারবেন না ট্রাম্প
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ- কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন ও সরকারি নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে...
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ- কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন ও সরকারি নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জয়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর তদন্ত ও নজরদারির সুযোগও বাড়বে ডেমোক্র্যাটদের। ফলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারবেন না তিনি।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৫১টি আসন। সর্বশেষ নির্বাচনি ফলাফলের চিত্র অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের আসন ৫৪টি এবং রিপাবলিকানদের ৪৪টি। তবে এখানে ৩৫টি আসনে ভোট হলেও এখনো দুটি আসনের ফল গণনা শেষ হয়নি। উল্লেখ্য, ৩৫টি হলো এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসন; সিনেটের মোট আসন ১০০টি। বাকি আসনগুলো আগের নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্যদের দখলে রয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছে ২২৫টি আসন, আর রিপাবলিকানদের আসন ১৩৮টি। ফলাফলের চিত্রে ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ৩৫৭টির গণনা শেষ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ২১৮টি আসন। প্রতিনিধি পরিষদ কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ। এর সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিল বা নতুন আইনের প্রস্তাব এই কক্ষে উত্থাপন করা যায়; পরে তা সিনেটে পাঠানো হয়।
নতুন আইন প্রণয়নে বাধা
কংগ্রেসের দুই কক্ষের সদস্যরাই নতুন আইন তৈরির প্রস্তাব দিতে পারেন। কোনো বিল আইনে পরিণত করতে হলে সাধারণত প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই তা পাস হতে হয়। এরপর সেটি প্রেসিডেন্টের কাছে স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়। ট্রাম্প চাইলে বিলে স্বাক্ষর না করে ভেটো দিতে পারবেন। তবে দুই কক্ষের প্রতিটিতে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন পেলে কংগ্রেস সেই ভেটো অগ্রাহ্য করে বিলটি আইনে পরিণত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্যসেবা ইউএসএ.গভ-এর ‘হাউ লজ আর মেড’ পাতায় আইন প্রণয়নের এই প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকবে
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা শেষ হবে না। তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে নির্দেশনা দিতে এবং নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তবে নির্বাহী আদেশ দিয়ে কংগ্রেসের পাস করা আইন বাতিল করা যাবে না। কোনো আইন পরিবর্তন বা বাতিল করতে হলে কংগ্রেসের মাধ্যমে নতুন আইন পাস করতে হবে।
প্রশাসনের ওপর বাড়বে নজরদারি
প্রতিনিধি পরিষদের বিভিন্ন কমিটি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করতে, শুনানি আয়োজন করতে এবং প্রয়োজনীয় নথি ও সাক্ষ্য তলব করতে পারবে। কংগ্রেসের তদন্তসংক্রান্ত ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সরকারি ওয়েবসাইটেও বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প।
নিয়োগের ক্ষেত্রেও বাধা
মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ, রাষ্ট্রদূত ও ফেডারেল বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে থাকায় ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ আটকে দেওয়া বা বিলম্বিত করার সুযোগ পাবে দলটি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন ও সিনেটের অনুমোদনপ্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
পরাজয় নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের ভালো ফলের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দলটি বহু বছর ধরে এমন বড় জয় পাওয়ার চেষ্টা করছিল এবং শেষ পর্যন্ত তা অর্জন করেছে। একই সাক্ষাৎকারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে মানুষ অসন্তুষ্ট ছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্পের মেয়াদ কতটা কঠিন হতে পারে
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে আইন প্রণয়ন ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা তার বিভিন্ন প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে পারবেন। এছাড়া ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বাজেট নিয়ে মতবিরোধ হলে অর্থ বরাদ্দ আটকে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি কার্যক্রম আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘গভর্নমেন্ট শাটডাউন’ বলা হয়।
অভিশংসনের সম্ভাবনা
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। তবে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হলেই প্রেসিডেন্টকে পদ ছাড়তে হয় না। তাকে পদ থেকে সরাতে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
ফলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমঝোতা করতে হতে পারে। এতে নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগের তুলনায় বেশি বাধার মুখে পড়তে পারেন তিনি।
সূত্র: কালবেলা