|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

শ্রমিকদের বিক্ষোভ: গাজীপুরে গার্মেন্টসে ভাঙচুরের অভিযোগ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
২০১ পঠিত
শ্রমিকদের বিক্ষোভ: গাজীপুরে গার্মেন্টসে ভাঙচুরের অভিযোগ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনার ঘটনায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বুধবার সকাল থেকে মহানগরীর বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে দফায় দফায় বিক্ষোভে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আন্দোলনের একপর্যায়ে অন্তত তিনটি পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘট...

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনার ঘটনায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বুধবার সকাল থেকে মহানগরীর বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে দফায় দফায় বিক্ষোভে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আন্দোলনের একপর্যায়ে অন্তত তিনটি পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকেই গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকরা। সকাল ১১টার দিকে বড়বাড়ী এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

ভাঙচুরের শিকার কারখানাগুলো হলো বেস্ট শার্টল লিমিটেড, পার্ক স্টার অ্যাপারেলস লিমিটেড ও রুপা অ্যাপারেলস লিমিটেড।

তবে এসব ভাঙচুরের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। তাদের দাবি, বেতন বৃদ্ধির ন্যায্য দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন। একটি কুচক্রী মহল শ্রমিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলায় ইন্ধন দিচ্ছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে একটি পক্ষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এতে প্রকৃত শ্রমিকদের আন্দোলন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। ভাঙচুরের ঘটনাকে সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে এক করে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এতে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের বিভিন্ন অলিগলিতে অবস্থান নেন।

পরে শ্রমিকরা আবারও বিভিন্ন স্থানে সড়কে নামার চেষ্টা করেন। কোথাও কোথাও নতুন করে অবরোধের কারণে মহাসড়ক ও আশপাশের সড়কে থেমে থেমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন কারখানার আশপাশের অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়েও শ্রমিকদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কোনো কোনো স্থানে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও কিছুক্ষণ পর আবারও বিক্ষোভ ও অবরোধের চেষ্টা চলে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, শ্রমিকরা শান্তিপ্রিয়। তারা সাধারণত ভাঙচুর কিংবা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত হতে চান না। শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

তিনি বলেন, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স