|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

‘ইনশাআল্লাহ’ থেকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ঐতিহাসিক জয়ের পর ট্রাম্পকে খোঁচা এল-সাইয়েদের

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:৪৪ এএম
৪০৮ পঠিত
‘ইনশাআল্লাহ’ থেকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ঐতিহাসিক জয়ের পর ট্রাম্পকে খোঁচা এল-সাইয়েদের
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে যাচ্ছেন ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে হারিয়ে স্থানীয় সময় বুধবার (০৪ নভেম্বর) ভোরে ডেট্রয়েটে সমর্থকদের সামনে দে...
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে যাচ্ছেন ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে হারিয়ে স্থানীয় সময় বুধবার (০৪ নভেম্বর) ভোরে ডেট্রয়েটে সমর্থকদের সামনে দেওয়া বিজয়ী ভাষণে প্রতিপক্ষের নির্বাচনি আক্রমণের জবাব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ব্যঙ্গ করতেও ছাড়েননি। ভাষণের শুরুতেই নির্বাচনের ফল নিয়ে কথা বলার সময় বারবার বলা নিজের একটি শব্দের প্রসঙ্গ তোলেন এল-সাইয়েদ। তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ’ অর্থাৎ ‘আল্লাহ চাইলে’, বলে তিনি নির্বাচনের ফলের কথা বলতেন। এখন সেই ‘ইনশাআল্লাহ’কে ‘আলহামদুলিল্লাহ’তে বদলে দেওয়ার সময় এসেছে। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ অর্থ ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য’। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এল-সাইয়েদের এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পথ তৈরি করেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে তিনি সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন। বিজয়ী ভাষণে এল-সাইয়েদ বলেন, আমার প্রতিপক্ষরা আমার নাম ও ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে প্রচারণা চালিয়েছে। শেষ পর্যন্ত খারাপ লোকেরা হেরেছে। প্রতিপক্ষরা এমন এক আমেরিকা চায়, যেখানে তাদের ধারণায় কিছু মানুষের জায়গা নেই। অথচ মিশিগান ঘৃণার বদলে আশাকে বেছে নিয়েছে। রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনার অবসরজীবন উপভোগ করুন।’ বিজয়ী ভাষণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে আরবি শব্দ ‘হাবিবি’ বলে সম্বোধন করেন এল-সাইয়েদ। শব্দটির অর্থ প্রিয়জন বা প্রিয় বন্ধু। ভ্যান্সের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী জানুয়ারিতে সংবিধান অনুযায়ী তাকেই নতুন সিনেটর হিসেবে এল-সাইয়েদকে শপথ পড়াতে হবে। আর এর চেয়ে মধুর পরিহাস আর কী হতে পারে! তিনি আরও বলেন, ‘আপনাকে আমাকে শপথ পড়াতে হবে, এতে একধরনের চমৎকার পরিহাস রয়েছে।’ এরপর কৌতুক করে বলেন, ‘উলভারিন এক, বাকাই শূন্য।’ মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া পরিচিতি ‘উলভারিন’ এবং ওহাইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বাকাই’ নামের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ইঙ্গিত করে কথাটি বলেন তিনি। ভ্যান্স ওহাইও অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিক। ট্রাম্পের উদ্দেশেও খোঁচা দেন এল-সাইয়েদ। নির্বাচনি প্রচারণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট একাধিকবার তার নাম সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে সমস্যায় পড়েছিলেন। সে প্রসঙ্গ টেনে এল-সাইয়েদ বলেন, ‘আমি জানি, আমার নাম উচ্চারণ করতে আপনার সমস্যা হয়েছে। শপথ নেওয়ার পর আপনি আমাকে শুধু সিনেটর বলেই ডাকতে পারেন।’ নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ এল-সাইয়েদকে ‘জিহাদি’ এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলে আখ্যা দিয়েছিলেন বলে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এল-সাইয়েদ বরাবরই মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিজয়ী ভাষণে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষরা আমার নাম ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আক্রমণ করার পর জীবদ্দশায় দেখা সবচেয়ে কুৎসিত প্রচারণাগুলোর একটি চালিয়েছে। এসব আক্রমণ সত্ত্বেও ভোটাররা ঘৃণার বদলে আশাকে বেছে নিয়েছেন। নির্বাচনে আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (আইপ্যাক) ভূমিকারও সমালোচনা করেন এল-সাইয়েদ। তার দাবি, তাকে পরাজিত করতে সংগঠনটি ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। তিনি বলেন, ‘আমাকে দুবার হারানোর সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’ প্রাথমিক ও চূড়ান্ত নির্বাচন দুই পর্যায়ের প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে এ মন্তব্য করেন তিনি। সিনেটের একটি আসনে জয়ী হওয়াই তার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল না বলে জানান এল-সাইয়েদ। তিনি বলেন, ‘লক্ষ্য ছিল এই আসন ব্যবহার করে আমাদের রাজনীতিকে বদলে দেওয়া।’ ভাষণের শেষ দিকে রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব কমানো, সাধারণ মানুষের হাতে বেশি অর্থ পৌঁছে দেওয়া এবং সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেয় ডেমোক্র্যাটরা। মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে বিদায়ী সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলেই রাখেন এল-সাইয়েদ। মিশিগানের স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা এল-সাইয়েদ সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, নির্বাচনে করপোরেট অর্থের প্রভাব কমানো, বৈষম্য দূরীকরণ, বৈদেশিক যুদ্ধ বন্ধ এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। সূত্র : সিবিএস নিউজ

সূত্র: কালবেলা