|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে ডেমোক্র্যাটদের সামনে যত চ্যালেঞ্জ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:১০ পিএম
৩৮৩ পঠিত
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে ডেমোক্র্যাটদের সামনে যত চ্যালেঞ্জ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়ে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও রাজনৈতিক চাপ তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচনে জয়ই শেষ কথা নয়, এখন শুরু হচ্ছে দলটির জন্য আরও কঠিন পরীক্ষা। ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ, দল...
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়ে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও রাজনৈতিক চাপ তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচনে জয়ই শেষ কথা নয়, এখন শুরু হচ্ছে দলটির জন্য আরও কঠিন পরীক্ষা। ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ, দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সামাল দেওয়া এবং বিকল্প নীতির কার্যকারিতা প্রমাণ করাই হবে তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রথম বড় পরীক্ষা হবে কংগ্রেসের ক্ষমতা কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত, শুনানি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ পাবে দলটি। প্রশাসনের ব্যয়, অভিবাসন নীতি, করপোরেট সম্পর্ক, ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্তও নজরদারির আওতায় আনতে পারবে তারা। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া মানেই ট্রাম্পের ক্ষমতা থামিয়ে দেওয়া নয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ভেটো ক্ষমতা থাকবে। ডেমোক্র্যাটরা কোনো বিল পাস করলেও ট্রাম্প তাতে ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো অতিক্রম করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে। ফলে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে দলটি। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ। এবারের নির্বাচনে মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম, জ্বালানি ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও অসন্তোষ ছিল। ডেমোক্র্যাটদের এখন এসব বিষয়ে কার্যকর বিকল্প নীতি তুলে ধরতে হবে। শুধু ট্রাম্পের সমালোচনা নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে হবে। তৃতীয় পরীক্ষা দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখা। এবারের নির্বাচনে মধ্যপন্থি, প্রগতিশীল, জনতাবাদী ও গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী—দলের বিভিন্ন ধারার প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। তবে অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন, করনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসব মতপার্থক্য বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। মধ্যপন্থিরা যেখানে মধ্যবিত্ত ও স্বতন্ত্র ভোটারদের আকৃষ্ট করার মতো অবস্থান নিতে চান, সেখানে প্রগতিশীল অংশ আরও বড় পরিবর্তনের পক্ষে। এই দুই ধারার মধ্যে সমন্বয় করাই হবে দলীয় নেতৃত্বের অন্যতম দায়িত্ব। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিসের নেতৃত্বও বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে। তিনি স্পিকার নির্বাচিত হলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতা করার পাশাপাশি দলের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের ক্ষমতা ব্যবহার করে বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক ফলাফল অর্জনের চাপও থাকবে তার ওপর। চতুর্থ চ্যালেঞ্জ নির্বাচনে পাওয়া সমর্থন ধরে রাখা। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অসন্তোষ থেকে অনেক ভোটার ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, তারা স্থায়ীভাবে দলটির সমর্থক হয়ে গেছেন। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনের নীতি এবং প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে তাদের ভবিষ্যৎ অবস্থান। বিশেষ করে তরুণ, কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো ভোটারদের মধ্যে যে সমর্থন পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তা ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটদের কাজ করতে হবে। এসব জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে আগামী নির্বাচনে আবারও সমর্থন হারানোর ঝুঁকি থাকবে। আরেকটি বড় পরীক্ষা হবে ট্রাম্পবিরোধী রাজনীতির বাইরে নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করা। এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা ডেমোক্র্যাটদের এক জায়গায় এনেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শুধু ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান দিয়ে রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখা কঠিন। অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও পররাষ্ট্রনীতিতে দলটির নিজস্ব পরিকল্পনা ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে হবে। এই নির্বাচনের ফলাফল ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখেও ডেমোক্র্যাটদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। কংগ্রেসের নেতৃত্ব এবং অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে জয়ী নেতাদের জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও গার্ডিয়ান

সূত্র: কালবেলা