|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নিয়ে সুখবর, রিটার্ন দিলেই মিলতে পারে কাটা অর্থ ফেরত

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
২৭৫ পঠিত
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নিয়ে সুখবর, রিটার্ন দিলেই মিলতে পারে কাটা অর্থ ফেরত
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কর কেটে নেওয়ার নিয়মে পরিবর্তনের ফলে নতুন আর্থিক সুবিধার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত, প্রবীণ ও সীমিত আয়ের বিনিয়োগকারীদের জন্য। বিশেষ করে যাদের সংসার চলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর এবং অন্য কোনো উল্লেখযোগ্য আয় নেই, তারা আগে কেটে রাখা করের টাকা ফেরত পেতে পারেন। তবে এ জন্য আয়কর...

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কর কেটে নেওয়ার নিয়মে পরিবর্তনের ফলে নতুন আর্থিক সুবিধার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত, প্রবীণ ও সীমিত আয়ের বিনিয়োগকারীদের জন্য। বিশেষ করে যাদের সংসার চলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর এবং অন্য কোনো উল্লেখযোগ্য আয় নেই, তারা আগে কেটে রাখা করের টাকা ফেরত পেতে পারেন। তবে এ জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। 

অন্যদিকে, সঞ্চয়পত্রের পাশাপাশি বেতন, বাড়িভাড়া কিংবা ব্যবসা থেকে আয় থাকলে কারও কারও করের পরিমাণ আগের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে। ফলে নতুন নিয়মে বিনিয়োগকারীদের লাভ-ক্ষতির হিসাব নির্ভর করছে তাদের মোট বার্ষিক আয়ের ওপর।

চূড়ান্ত করের বদলে অগ্রিম কর

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনের প্রচলিত ব্যবস্থায় এত দিন পরিবর্তন এসেছে। আগে টিআইএনধারী বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেওয়ার সময় ১০ শতাংশ এবং টিআইএন না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে কর কেটে রাখা হতো। এই অর্থকেই চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ফলে প্রকৃত আয়কর কম হলেও অতিরিক্ত কেটে নেওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ ছিল না।

নতুন ব্যবস্থায় উৎসে কেটে রাখা কর আর চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য হবে না। এটি বিনিয়োগকারীর অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচিত হবে। বছর শেষে তার সব ধরনের আয় একত্র করে প্রকৃত করের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এরপর আগে জমা দেওয়া কর সমন্বয় করা হবে।

ব্যক্তির মোট আয় ও প্রযোজ্য করহার অনুযায়ী ১০, ১৫, ২০, ২৫ ও ৩০ শতাংশ হারে কর নির্ধারিত হতে পারে। নির্ধারিত করের চেয়ে বেশি অর্থ আগে কেটে রাখা হলে অতিরিক্ত টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে। বিপরীতে কম কাটা হলে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

মুনাফাই একমাত্র আয় হলে মিলতে পারে পুরো টাকা

নতুন নিয়মে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেই বিনিয়োগকারীদের, যাদের উপার্জনের অন্য কোনো উৎস নেই। বিশেষ করে অবসরের পর জীবনের সঞ্চয় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে যারা নিয়মিত মুনাফা দিয়ে সংসার চালান, তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

ধরা যাক, একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র থেকে বছরে এক লাখ টাকা মুনাফা পেলেন। প্রচলিত নিয়মে এই অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে ১০ হাজার টাকা কর কেটে রাখা হলো।

কিন্তু ওই ব্যক্তির যদি আর কোনো আয় না থাকে এবং তার মোট বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকে, তাহলে প্রকৃত আয়কর দাঁড়াবে শূন্য টাকা। ফলে আগে কেটে রাখা ১০ হাজার টাকাই ফেরত পাওয়ার দাবি করতে পারবেন তিনি।

অর্থাৎ মুনাফার ওপর কর কেটে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত প্রকৃত করের দায় না থাকলে সেই অর্থ নিজের কাছে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অন্যান্য উৎসের আয়েও বদলে যাবে করের হিসাব

শুধু সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নয়, একজন ব্যক্তির অন্যান্য উৎস থেকে অর্জিত আয়ও এখন কর নির্ধারণে বিবেচনায় আসবে। ফলে চাকরিজীবী, বাড়ির মালিক কিংবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগকারীদের হিসাব আলাদা হবে।

উদাহরণ হিসেবে, একজন ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র থেকে বছরে এক লাখ টাকা মুনাফা পেলেন। এ জন্য তার ১০ হাজার টাকা উৎসে কর কাটা হয়েছে। পাশাপাশি চাকরি বা অন্য কোনো উৎস থেকে তার আয় সাড়ে তিন লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে তার বার্ষিক আয় হবে সাড়ে চার লাখ টাকা। উদাহরণ অনুযায়ী, প্রথম চার লাখ টাকা করমুক্ত সীমায় থাকলে অবশিষ্ট ৫০ হাজার টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে পাঁচ হাজার টাকা কর দিতে হবে।

কিন্তু সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আগেই ১০ হাজার টাকা কেটে রাখা হয়েছে। ফলে তার প্রকৃত করের তুলনায় পাঁচ হাজার টাকা বেশি জমা হয়েছে। আয়কর রিটার্নের মাধ্যমে এই অতিরিক্ত অর্থ ফেরত চাওয়ার সুযোগ থাকবে।

বড় অঙ্কের মুনাফায় বাড়তে পারে করের দায়

নতুন নিয়মে কম আয়ের বিনিয়োগকারীরা সুবিধা পেলেও বেশি আয়ের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি উল্টো হতে পারে। কারণ, তাদের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা অন্যান্য আয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় মোট করের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

ধরা যাক, একজন ব্যক্তি বছরে সঞ্চয়পত্র থেকে পাঁচ লাখ টাকা মুনাফা পেলেন। এর বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে ৫০ হাজার টাকা কর কাটা হয়েছে। অন্যদিকে, বেতন বা অন্য কোনো উৎস থেকে তার আয় চার লাখ টাকা।

এতে তার মোট বার্ষিক আয় দাঁড়াবে নয় লাখ টাকা। উদাহরণ অনুযায়ী, প্রথম চার লাখ টাকা করমুক্ত থাকার পর পরবর্তী তিন লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে ৩০ হাজার টাকা এবং পরের দুই লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ হারে আরও ৩০ হাজার টাকা কর নির্ধারিত হবে।

অর্থাৎ তার মোট করের পরিমাণ হবে ৬০ হাজার টাকা। অথচ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আগেই ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে বাকি ১০ হাজার টাকা তাকে অতিরিক্ত দিতে হবে।

এ কারণে যাদের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় রয়েছে, তাদের আগে থেকেই সম্ভাব্য করের হিসাব করে রাখা প্রয়োজন।

কর ফেরত পেতে মানতে হবে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কেটে রাখা অর্থ ফেরত পেতে শুধু কর কেটে নেওয়ার বিষয়টি জানালেই হবে না। এর জন্য আয়কর রিটার্নের মাধ্যমে যথাযথভাবে দাবি জানাতে হবে।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।

প্রথমত, বিনিয়োগকারীর টিআইএন থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে।

তৃতীয়ত, রিটার্নে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া সব আয়ের তথ্য উল্লেখ করতে হবে।

চতুর্থত, মুনাফার বিপরীতে কেটে রাখা করের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।

পঞ্চমত, অতিরিক্ত কর ফেরত পাওয়ার জন্য রিটার্নে ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিয়ে আবেদন করতে হবে।

কর বিভাগ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রাপ্য অর্থ ১২০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়ার কথা।

বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক আয়ের হিসাব

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর নতুন করব্যবস্থার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। এত দিন মুনাফা থেকে নির্দিষ্ট হারে কর কেটে নেওয়ার পর বিষয়টি শেষ হয়ে গেলেও এখন ব্যক্তির পুরো বছরের আয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

যাদের অন্য কোনো আয় নেই কিংবা মোট আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে, তাদের জন্য এই পরিবর্তন বাড়তি অর্থ ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে নিয়মিত মুনাফার ওপর নির্ভরশীল প্রবীণ ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এতে উপকৃত হতে পারেন।

তবে এই সুবিধা পেতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বিকল্প নেই। অন্যদিকে, যাদের মোট আয় বেশি, তাদের ক্ষেত্রে উৎসে কেটে রাখা করের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন হতে পারে।

সব মিলিয়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর নতুন করব্যবস্থা এককভাবে সবার জন্য সুখবর কিংবা দুঃসংবাদ নয়। বরং একজন বিনিয়োগকারীর সারা বছরের আয়, করমুক্ত সীমা এবং আগে পরিশোধ করা করের পরিমাণই নির্ধারণ করবে তিনি শেষ পর্যন্ত কতটা সুবিধা পাবেন, নাকি বাড়তি করের মুখোমুখি হবেন।

সূত্র: কালবেলা