|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ভুলে অজু ছাড়া নামাজ পড়লে করণীয় কী

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:০০ এএম
৩৩৫ পঠিত
ভুলে অজু ছাড়া নামাজ পড়লে করণীয় কী
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় অনেক সময় মানুষ সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে অজু ছাড়াই নামাজে দাঁড়িয়ে যায়, আবার অনেক সময় অজু আছে কি নেই—তা নিয়ে চরম মানসিক সন্দেহে ভোগে।

নামাজের জন্য অজু করা পূর্বশর্ত। মহানবী (সা.) অজুকে নামাজের ‘চাবিকাঠি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় অনেক সময় মানুষ সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে অজু ছাড়াই নামাজে দাঁড়িয়ে যায়, আবার অনেক সময় অজু আছে কি নেই—তা নিয়ে চরম মানসিক সন্দেহে ভোগে।

শয়তানও ইবাদতের সময় মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করতে সবচেয়ে বেশি তৎপর থাকে। এসব বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ইসলামি ফিকহ অত্যন্ত সুস্পষ্ট, যৌক্তিক ও সহজ সমাধান প্রদান করেছে।

ভুলে অজু ছাড়া নামাজ পড়ে ফেললে

ইচ্ছাকৃতভাবে অজু ছাড়া নামাজ পড়া ইসলামে একটি চরম অবাধ্যতা এবং অনেক ফকিহের মতে কুফরির কাছাকাছি একটি পাপ। কিন্তু যদি কেউ সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে অজু ছাড়া নামাজ পড়ে এবং নামাজের পর তার মনে পড়ে, তবে তার এই ভুলের জন্য কোনো পাপ হবে না।

কিন্তু তার নামাজটি ইসলামের দৃষ্টিতে বাতিল বা অকার্যকর বলে গণ্য হবে। মহানবী (সা.) অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘পবিত্রতা (অজু বা গোসল) ছাড়া কোনো নামাজ কবুল করা হয় না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৪)

যদি কেউ ভুলে অজু ছাড়া বা অপবিত্র কাপড়ে নামাজ পড়ে ফেলে এবং পরে তার মনে পড়ে, তবে তার ওপর পুনরায় অজু করে সেই নামাজটি আবার পড়া আবশ্যক। ভুলের কারণে আল্লাহর কাছে সে অপরাধী হবে না, কিন্তু পূর্বের নামাজটি বাতিল বলে গণ্য হবে। (আল-ফতোয়া আল-হিন্দিয়া, ১/৮৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০০)

অনেক মানুষের নামাজের ভেতরে হঠাৎ মনে হয় যে তার বোধ হয় বায়ু নির্গত হয়েছে বা অজু ভেঙে গেছে। এটি মূলত মানুষের ইবাদত নষ্ট করার জন্য শয়তানের একটি সূক্ষ্ম প্ররোচনা। এমন সন্দেহ হলে নামাজ ভেঙে ফেলা যাবে না।

নামাজের ভেতরে অজু ভঙ্গের সন্দেহ হলে

অনেক মানুষের নামাজের ভেতরে হঠাৎ মনে হয় যে তার বোধ হয় বায়ু নির্গত হয়েছে বা অজু ভেঙে গেছে। এটি মূলত মানুষের ইবাদত নষ্ট করার জন্য শয়তানের একটি সূক্ষ্ম প্ররোচনা। এমন সন্দেহ হলে নামাজ ভেঙে ফেলা যাবে না।

এক ব্যক্তি নবীজির কাছে অভিযোগ করলেন যে, নামাজের মধ্যে তাঁর মনে হয় যেন অজু ভেঙে গেছে। মহানবী (সা.) তাঁকে একটি মূলনীতি শিখিয়ে দিয়ে বললেন, ‘সে যেন নামাজ ছেড়ে না দেয়, যতক্ষণ না সে (বায়ু নির্গত হওয়ার) কোনো শব্দ শোনে অথবা গন্ধ পায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৭)

অর্থাৎ, শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কেবল সন্দেহের বশবর্তী হয়ে নামাজ ছাড়া যাবে না।

অজু থাকা বা না থাকা নিয়ে সন্দেহ হলে

নামাজে দাঁড়ানোর আগে যদি কারও সন্দেহ হয় যে তার অজু আছে কি নেই, এ ক্ষেত্রে ইসলামি আইনশাস্ত্রের একটি মূলনীতি হলো, নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহের কারণে দূর হয় না। 

সুতরাং যদি কারও অজু করার বিষয়টি নিশ্চিত মনে থাকে, কিন্তু পরে অজু ভেঙে যাওয়ার ব্যাপারে শুধু সন্দেহ তৈরি হয়, তবে ইসলামের দৃষ্টিতে সে অজু অবস্থাতেই আছে বলে গণ্য হবে এবং সে ওই অবস্থায় নামাজ পড়তে পারবে। অহেতুক সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বারবার অজু করা শয়তানের প্ররোচনা ছাড়া আর কিছুই নয়। (ইবনে আবিদিন, রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার, ১/১৪৮, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯২)

এর বিপরীত অবস্থায়, যদি কারও মনে থাকে যে তার অজু ভেঙেছিল, কিন্তু পরে অজু করেছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ হয়, তবে তাকে নতুন করে অজু করতে হবে।

নামাজের মাঝে যদি সত্যিই কারও অজু ভেঙে যায় (যেমন—বায়ু নির্গত হওয়া, রক্ত বের হওয়া), তবে বিন্দুমাত্র লজ্জা না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে নামাজ থেকে বের হয়ে যাওয়া আবশ্যক। লজ্জায় পড়ে অজু ছাড়া নামাজ চালিয়ে যাওয়া গর্হিত কাজ।

অজুর মাঝে অঙ্গ ধোয়ার ব্যাপারে সন্দেহ হলে

অজু করার সময় যদি হঠাৎ সন্দেহ হয় যে মুখ বা হাত ধোয়া হয়েছে কি না, এর বিধান হলো, কারও জীবনে যদি এমন সন্দেহ হঠাৎ কদাচিৎ হয়ে থাকে, তবে যে অঙ্গের ব্যাপারে সন্দেহ হচ্ছে তা ধুয়ে নেওয়া উত্তম।

কিন্তু কেউ যদি শুচিবায়ু বা মানসিক ওয়াসওয়াসায় ভোগেন এবং প্রায়ই তার এই সন্দেহ হয়, তবে তার এই সন্দেহকে পাত্তা না দিয়ে অজু চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, এই সন্দেহকে প্রশ্রয় দিলে তা মানসিক ব্যাধিতে রূপ নেয়।

নামাজের মাঝে সত্যি সত্যি অজু ভেঙে গেলে

সন্দেহ নয়, বরং নামাজের মাঝে যদি সত্যিই কারও অজু ভেঙে যায় (যেমন—বায়ু নির্গত হওয়া, রক্ত বের হওয়া), তবে বিন্দুমাত্র লজ্জা না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে নামাজ থেকে বের হয়ে যাওয়া আবশ্যক। লজ্জায় পড়ে অজু ছাড়া নামাজ চালিয়ে যাওয়া গর্হিত কাজ।

এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত গিয়ে নতুন করে অজু করে এসে নামাজ পূর্ণ করবে। 

ইসলাম মূলত একটি সহজ ও বাস্তবমুখী জীবনব্যবস্থা। অজু ও পবিত্রতার ক্ষেত্রে অহেতুক সন্দেহ বা শুচিবায়ু পরিহার করে স্বাভাবিক ও নিশ্চিত জ্ঞানের ওপর নির্ভর করাই হলো নবীজির শেখানো প্রকৃত সুন্নত।

সূত্র: প্রথম আলো